ঝিনাইদহের মহেশপুরে কালভার্টের মুখে বাঁধ দিয়ে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত শত শত বিঘা কৃষিজমি।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সামন্তা গ্রামে প্রভাবশালীরা কালভার্টের মুখে বাঁধ দিয়ে মাছের পুকুর খনন করায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং কৃষকেরা দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সামন্তা বিজিবি ক্যাম্পের সামনে ও গ্রামের বিভিন্ন স্থানে পুকুর নির্মাণের কারণে এলাকার খালের পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আক্তার মেম্বর ও তার ভাই মনিরুজ্জামান লাল্টু সামন্তা ক্যাম্পের সামনে খালে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করেছেন। অন্যদিকে কোরবান আলী, রফিকুল ইসলাম, মহসিন ও ইউসুফ কালভার্টের মুখে মাছের খামার গড়ে জলাবদ্ধতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান, “আমাদের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ছিল ফসল, কিন্তু বাঁধ দেওয়ার ফলে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। আগে এখানে বছরে তিন ফসল হতো, এখন একটাও হচ্ছে না।” অন্য আরেক কৃষক বলেন, “ফসল না হওয়ায় সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, আমরা প্রতিবাদে পথে নামতে বাধ্য হব।”
অপর ভুক্তভোগী জানান, “বাঁধ দেওয়ায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। আমরা চাই দ্রুত বাঁধ ভেঙে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হোক।”
পুকুর খননকারীরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অভিযোগ পাল্টা দাবি করেন।আক্তার মেম্বর বলেন, “কালভার্টের মুখে পুকুর করা হয়েছে বলে পানি বের হচ্ছে না, তবে পানি বের করতে খোলা হলে আমরা ও খোলা দিব।” কোরবান আলীও একই কথা বলেন।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানান, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না, তবে অভিযোগ পেলে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।”
স্থানীয় কৃষকেরা সরকারের প্রতি দাবি জানান দ্রুত বাঁধ ভেঙে খাল পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি, এমন ঘটনা পুনরায় যাতে না ঘটে তার জন্য কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মতামত দিন