কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণপাড়ায় পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে আউশ ধান হুমকিতে, দুশ্চিন্তায় কৃষক।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় টানা বৃষ্টির সঙ্গে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে ব্যাপক হুমকির মুখে পড়েছে আধাপাকা আউশ ধান।

কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।

ভারত সীমান্তঘেঁষা এই উপজেলার ভূপ্রকৃতি এমনই যে, উজানের ঢল সহজেই প্রবেশ করে নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত করে। সাম্প্রতিক বর্ষণ ও পাহাড়ি পানির কারণে অনেক জমিতে পানি দাঁড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে অধিকাংশই আউশ ধানের ক্ষেত। এসব জমিতে ধান এখন আধাপাকা অবস্থায় রয়েছে, ফলে কৃষকরা তা কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণপাড়ায় আউশ ধানের চাষ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং আগের বছরের বন্যা পরবর্তী পলিমাটির উপকারে এবার ফলন ভালো হওয়ার আশা করেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু আকস্মিক জলাবদ্ধতায় সেই আশা এখন  শঙ্কায় রূপ নিচ্ছে।

ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়ন, শশীদল ও চান্দলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, ঘুঙুর ও শালদা নদী এবং সংশ্লিষ্ট খালগুলোর পানি বেড়ে গেছে। এসব নদী-খাল উপচে ফসলি মাঠে পানি ঢুকছে। তলিয়ে যাচ্ছে ধানক্ষেত, যা কৃষকদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।

সদর ইউনিয়নের নন্দীপাড়া গ্রামের কৃষক শাহজালাল বলেন, “গত বছরও বাঁধ ভেঙে ধান ডুবে গিয়েছিল। এবারও পানি বাড়ছে, ধান ডোবার উপক্রম। ধার করে চাষ করেছি—ফসল হারালে নিঃস্ব হয়ে যাব।”

নাগাইশ এলাকার কৃষক ইব্রাহিম খলিল জানান, “আউশ ধানে এখন ধান ধরেছে, কিছু কিছু জায়গায় পাকতেও শুরু করেছে। এই সময় এমন পানি হলে সব শেষ হয়ে যাবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে কাটার উপযোগী ধান দ্রুত কেটে ফেলা যায়। আশা করছি ক্ষতির মাত্রা কমানো সম্ভব হবে।”

তবে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, পানি না কমা পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ব্রাহ্মণপাড়ার আউশ ধান চাষিরা মারাত্মক আর্থিক বিপর্যয়ে পড়তে পারেন।

মতামত দিন