ফল চাষে ঝুঁকছেন মেহেরপুরের কৃষকরা, বিদেশি জাতের ফলেও আগ্রহ।
মেহেরপুরে ঐতিহ্যবাহী ধান-গম চাষের পাশাপাশি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে নানা জাতের ফলের বাগান। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের বিদেশি ফলের চাষেও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন জেলার অনেক কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি অর্থবছরে জেলায় প্রায় ৬ হাজার ৮৬৮ হেক্টর জমিতে ফলের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মাল্টা, ড্রাগন, আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বাউকুলসহ অনেক বিদেশি ফলের বাগান রয়েছে। দেশি ফলের পাশাপাশি উচ্চফলনশীল এসব জাত নতুন করে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আগে ধান চাষ করলেও এখন ছয় বিঘা জমিতে থাই পেয়ারা চাষ করে ভালো লাভ করছি।” কৃষক জাহির হোসেন জানান, “ড্রাগন ও আম চাষে মিলিয়ে বছরে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আয় হয়।”
তবে শুধু ফল চাষেই নয়, ফল চারা উৎপাদনেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। ‘বন্ধন নার্সারির’ মালিক দীপ সাহা বলেন, “বিদেশি ফলের চারা এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই বাড়িতে টবেও ফলগাছ লাগাচ্ছেন।”
তবে নতুন জাতের ফলগাছে বিনিয়োগ করতে গিয়ে আর্থিক চ্যালেঞ্জে পড়ছেন অনেক চাষি। তাদের মতে, চারার দাম বেশি এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞ সহায়তার প্রয়োজন হয়। ফলে সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লটের ন্যায্য বণ্টন এবং সহজ শর্তে ঋণের দাবি জোরালো হচ্ছে।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সামসুল আলম জানান, “ফল চাষকে আরও টেকসই করতে প্রশিক্ষণ, বিনা মূল্যে চারা বিতরণ এবং প্রণোদনা চালু রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সহায়তা আরও জোরদার করা হবে।”
ফল চাষের এ সাফল্য এখন জেলার কৃষকদের শুধু বিকল্প আয়ের পথ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কৃষি গড়ার নতুন মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মতামত দিন