বর্ষা এলো, কিন্তু বৃষ্টি নেই: রংপুরের আমন চাষে শঙ্কা, বাড়ছে সেচ নির্ভরতা ও খরচ।
রংপুর অঞ্চলে বর্ষাকাল পেরিয়ে গেলেও আমন ধানের জমিতে আশানুরূপ পানি নেই। সেচনির্ভর হয়ে পড়েছে পুরো আবাদ কার্যক্রম।
সাধারণত আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টিতে জমি নরম হয়ে গেলে রোপা আমনের চারা লাগানো হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে পানি না থাকায় অনেক জমিই এখনো অনাবাদি পড়ে রয়েছে। যেসব কৃষক চাষ শুরু করেছেন, তাদেরকে নির্ভর করতে হচ্ছে সেচ পাম্পের ওপর। এতে এক হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে কেবল চারা রোপণে।
রংপুরের কৃষক জানান, “এখনো ভালোভাবে বৃষ্টি হয়নি। বাধ্য হয়ে পাম্প চালিয়ে পানি দিতে হচ্ছে। আগের মতো স্বাভাবিক চাষ হচ্ছে না।”
একই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন আরেক কৃষক।জমিতে পানি না থাকলে ধানের উৎপাদনও কমে যায়।আবার সেচের খরচও বাড়ছে।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. এনামুল হক জানান, “যথাযথভাবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে পারলে অনেকটাই সেচ নির্ভরতা কমানো যেত। তবে আমরা আশাবাদী, ফলন ভালো হলে কৃষকরা এই অতিরিক্ত খরচ পুষিয়ে নিতে পারবেন।”
আবহাওয়ার তথ্য বলছে, গত বছরের জুলাই মাসে রংপুর অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়েছিল ৪৫৫ মিলিমিটার। কিন্তু এ বছর সে হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০০ মিলিমিটারে। ফলে জমি শুকনো থাকায় সেচের বিকল্প নেই।
রংপুর বিভাগে চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২০ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে। তবে প্রকৃতির এমন আচরণে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

মতামত দিন