বৃষ্টির তোড়ে ডুবলো যশোরের সবজি খামার, ক্ষতির মুখে হাজারো চাষি।
টানা দেড় মাসের অতিবৃষ্টিতে যশোরের মাঠভরা সবজি চাষ আজ বিপর্যস্ত। জলাবদ্ধতা আর গাছের পচনে ফলন যেমন ধসে পড়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের কপালেও নেমেছে হতাশার ছায়া।
জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু ১৫০ হেক্টর জমির সবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির। কিন্তু মাঠের কৃষকদের দাবি, এই সংখ্যা বাস্তবতার তুলনায় অনেক কম।
সদরের চুড়ামনকাটি এলাকার চাষিরা বলেন, “পটল থেকে শুরু করে লালশাক-বেগুন—সব গাছই পচে গেছে। আর নতুন করে চাষেরও সুযোগ নেই। এত বৃষ্টিতে জমিতে নামাই যাচ্ছে না।”
কৃষক নাহিদ ইসলাম ৬ বিঘা জমিতে করলা ও বেগুনের আবাদ করেও পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতির হিসাব দিচ্ছেন। তার ভাষায়, “চাষের খরচও ওঠেনি, এখন বাধ্য হয়ে ধান লাগাচ্ছি।”
আরেক কৃষক বলেন, “দেড় মাস ধরে বৃষ্টি, ক্ষেত থেকে মাত্র চার কেজি ঢেঁড়শ তুলেছি। যা খরচ, তা তো তুলতেই পারিনি।”
শুধু মাঠের গাছই নয়, আগাম শীতকালীন সবজির চারা পর্যন্ত নষ্ট হয়ে গেছে। “যশোর থেকে যেসব চারা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যায়, সেগুলোও আর বিক্রি সম্ভব নয়। কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে,” বলেন কৃষক আলম।
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সমরেণ বিশ্বাস বলছেন, “পুরো জেলার মধ্যে ১৫০ হেক্টর জমির শাকসবজি পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে, আর ৬৮১ হেক্টর জমিতে ৫০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। চাষিদের পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে ক্ষতি কিছুটা হলেও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।”
আবহাওয়া অফিস বলছে, জুন মাসে যেখানে যশোরে গড় বৃষ্টিপাত ছিল ২৯৯ মিলিমিটার, সেখানে জুলাই মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৮০০ মিলিমিটার। আর সেই জলেই তলিয়ে গেছে হাজার হাজার চাষির স্বপ্ন।
মতামত দিন