কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরে আমড়ার বাম্পার ফলন, চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

পিরোজপুরের গ্রামীণ জনপদে এখন আমড়ার মৌসুম। জেলার নানা প্রান্তে আমড়ার গাছগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলছে টক-মিষ্টি সবুজ ফল।

চলতি বছর ফলন ভালো হওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে চাষিদের। খরচ কম, লাভ বেশি—এ দুই কারণে পিরোজপুরে দিন দিন বাড়ছে আমড়ার বাণিজ্যিক চাষ।

সদর, নাজিরপুর, কাউখালী ও নেছারাবাদে মাঠে মাঠে দেখা মিলছে আমড়ার বাগানের। অনেকেই নিজ উদ্যোগে বসতভিটা কিংবা অনাবাদি জমিতে গড়ে তুলছেন ছোট-বড় বাগান। একেকটি গাছ থেকে বছরে তিন থেকে চার মণ আমড়া উঠছে, যা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়।

চাষিদের মতে, এই ফলের যত্ন কম, খরচও প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে অন্যান্য ফলের তুলনায় ঝুঁকি কম। স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের নানা প্রান্তে যাচ্ছে এখানকার উৎপাদিত আমড়া। সরাসরি গাছ থেকে ফল কিনে নিচ্ছেন পাইকাররা, ফলে বিপণন ঝামেলাও নেই তেমন।

পিরোজপুর কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী থাকায় আমড়া চাষ এখানে ফলপ্রসূ হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে চাষিদের আরও উৎসাহিত করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল হাসান বলেন, "আমরা চাষিদের অনাবাদি জমিকে কাজে লাগাতে বলছি। আমড়ার মতো ফল এসব জমিতে ভালো হয়, আয়ও নিশ্চিত।"

জেলার ৪৬৩ হেক্টর জমিতে বর্তমানে আমড়ার বাগান রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে চাষ করলে এই ফল হতে পারে পিরোজপুরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

মতামত দিন