কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

লোকসানের শঙ্কায় শরীয়তপুরের পেঁপে চাষিরা,ফলন ভালো, কিন্তু দাম নেই।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

পেঁপে চাষে আগ্রহ বাড়লেও চলতি মৌসুমে লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না শরীয়তপুরের কৃষকদের। আবাদ ও ফলন বেড়েছে, কিন্তু বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না মেলায় লোকসানে পড়েছেন অনেক চাষি।

এর মধ্যে  উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে।

ধান-পাটের পাশাপাশি পেঁপের আধিপত্য

জেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠে ধান ও পাট ছাড়িয়ে এখন জায়গা করে নিচ্ছে পেঁপের চাষ। সবুজ পেঁপে বাগান পাখির চোখে এক বৈচিত্র্যপূর্ণ চিত্র তৈরি করছে। কৃষকরা বলছেন, কম খরচে দ্রুত ফল দেয় এমন ফসল হওয়ায় পেঁপের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

ফলন ভালো, কিন্তু দাম নেই

কৃষকদের ভাষায়, এবার আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও পেঁপের ফলন খারাপ হয়নি। বরং পর্যাপ্ত ফল এসেছে গাছে। কিন্তু বাজারে দরপতন ঘটেছে। একদিকে বৃষ্টি কমে সেচ ও সার প্রয়োগে খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে বাজারে পাইকারি দামে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে লোকসানে।

বিপণন কাঠামো নিয়ে ক্ষোভ

ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলায় শরীয়তপুরের পেঁপে সরবরাহ হলেও পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে পারছে না স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা। কৃষকদের অভিযোগ, পাইকারি ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। ট্রাকে পণ্য পাঠাতে খরচ বাড়ে, আর বিক্রির সময় দাম পড়ে যায়।

কৃষি বিভাগের আশ্বাস

এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে কৃষি বিভাগ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. রিয়াজুর রহমান জানান, “আমরা নতুন জাত ও প্রযুক্তি নিয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, যেন তারা কম খরচে বেশি উৎপাদন করতে পারেন।”

চাষ বাড়ছে, সংকটও

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলাসহ পুরো জেলায় এখন প্রায় ১৮০ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হচ্ছে। তবে বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতা,পরিবহন ব্যয় ও সংরক্ষণের অভাবে এই আবাদ লাভে রূপান্তর হচ্ছে না।

মতামত দিন