কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

ধান গবেষণায় নতুন সাফল্য, ব্রি উদ্ভাবন করলো তিন উন্নত জাত।

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ধানের উৎপাদন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন করে তিনটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে। লবণাক্ত এলাকায় চাষযোগ্য, অধিক ফলনশীল এবং ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী—এই তিন বৈশিষ্ট্যের ধান জাতগুলো সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদন পেয়েছে।

লবণাক্ত জমির জন্য উপযোগী ব্রি ধান-১১২:

ব্রি ধান-১১২ নামে পরিচিত এই জাতটি উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে ফলনের জন্য উপযুক্ত। মাঝারি মেয়াদি জীবনচক্রের এই ধান প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪ থেকে ৬ টন ফলন দিতে পারে। গাছ ঝড়ে পড়ে না, চাল সাদা ও ঝরঝরে ধরনের।

বোরো মৌসুমের জন্য বিকল্প জাত: ব্রি ধান-১১৩:

দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয় ব্রি-২৯ এর বিকল্প হিসেবে ব্রি ধান-১১৩ জাতটি চিহ্নিত হয়েছে। এটি বেশি ফলন দেয়, দানার রং সাদা ও আকৃতি মাঝারি চিকন। ভাত ঝরঝরে হয় এবং এতে প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। ভালো ব্যবস্থাপনায় হেক্টরপ্রতি ১০ টনের কাছাকাছি ফলন পাওয়া সম্ভব।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় শক্তিশালী ব্রি ধান-১১৪:

ব্রি ধান-১১৪ এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এটি বোরো মৌসুমে আবাদযোগ্য এবং গড় ফলন প্রায় ৭.৭ টন প্রতি হেক্টর। দানা মাঝারি মোটা এবং ভাত ঝরঝরে হয়।

ব্রি’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খোন্দকার মো. ইফতেখারুদ্দৌলা জানান, “তিনটি জাতই উচ্চফলনশীল এবং কৃষকের জন্য লাভজনক হবে। স্থানীয় পরিবেশ ও জলবায়ুর উপযোগী করে এগুলো তৈরি করা হয়েছে।”

এই উদ্ভাবন দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিক্ষেত্রে একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মতামত দিন