কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

আকস্মিক বন্যায় ডুবছে বোরো ধান, চোখের সামনে হারাচ্ছে সোনালি ফসল।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোরের বিস্তীর্ণ চলনবিলজুড়ে আকস্মিক বন্যায় পাকা বোরো ধান তলিয়ে যাচ্ছে।ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ধান রক্ষা করা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
কোথাও কোমর সমান পানি, কোথাও আবার ধানের শিষ মাত্র ভেসে আছে পানির ওপরে।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুড়াবিনোদ এলাকার কৃষক আজগার আলী জানান, সাত বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। ঈদের পরপরই ধান কাটার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু হঠাৎ পানি বাড়ায় ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জমি থেকে ঘরের চাল পর্যন্ত খোরাকির ধানই জুটবে না বলে আশঙ্কা তার।

এই দুর্দশা শুধু একার নয়—চলনবিলের তাড়াশ, উল্লাপাড়া, গুরুদাসপুর, সিংড়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া—সব এলাকার কৃষকরাই বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে যারা দেরিতে বোনা জাতের ধান আবাদ করেছেন, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেকে শ্রমিক বা যন্ত্রপাতি জোগাড় করতে না পেরে জমিতে নামতেই পারছেন না।

শ্রমিক পাওয়াও এখন কঠিন ও ব্যয়বহুল। কুন্দইল গ্রামের কৃষক আয়নাল মণ্ডল বলেন, বর্তমানে বিঘা প্রতি ধান কাটতে খরচ হচ্ছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। হারভেস্টার থাকলেও অনেক জায়গায় সেটি নামানো যাচ্ছে না পানির উচ্চতার কারণে। শ্রমিকের মজুরি হয়েছে আকাশছোঁয়া, কিন্তু প্রাপ্তি নেই।

তাড়াশের ঘরগ্রাম এলাকার কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, তার ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামে জমি পানিতে ডুবে আছে। ধান কাটার জন্য কেউ ঈদ উদযাপন করতে পারেননি। এখন শুধু চেষ্টা করছেন কীভাবে ফসলের কিছুটা হলেও ঘরে তোলা যায়।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলমান দুর্যোগে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে যন্ত্র বা লোকবল সংকট মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পাশে আছি। পানিতে যেসব ধান ডুবে গেছে, তা যত দ্রুত সম্ভব কেটে ফেলতে বলা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি খুবই চ্যালেঞ্জিং।”

চলমান দুর্যোগে চলনবিল এলাকার শত শত কৃষকের স্বপ্নের ফসল এখন পানির নিচে। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকারি সহায়তা ছাড়া উপায় নেই বলে মনে করছেন তারা।

মতামত দিন