বন্যায় কুড়িগ্রামে তলিয়ে গেল বাদাম-পটল, বিপাকে চরাঞ্চলের কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. মো. মামুনুর রহমান জানিয়েছেন, পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে,অনেক কৃষক পানিতে নেমে অপরিপক্ক ফসল তুলছেন, কেউ আবার জমিতে পানি নেমে যাওয়ার পর বুঝতে পারছেন সব গাছ মরে গেছে। কোথাও কোথাও ক্ষেতে পড়ে থাকা গাছ উঠিয়ে ফেলছেন কৃষকরা। নদ-নদীর চরাঞ্চলের এমন চিত্র গত এক সপ্তাহ ধরে।
তিস্তা, দুধকুমার, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ায় এসব নদীর অববাহিকার নিচু জমি ডুবে গেছে। এতে বাদাম, পটল, পাট, মরিচ, কাউন, তিল, আউশসহ নানা ফসল নষ্ট হয়েছে। অনেক জমি কয়েকদিন ধরে পানির নিচে থাকায় ফসল আর টেকেনি।
সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক এরশাদ আলী বলেন,“আমার ১ বিঘা জমির সব পটল গাছ পানিতে ডুবে মরে গেছে। আর দুই-তিন দিন সময় পেলে অনেক টাকার পটল বিক্রি করা যেত।”
জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় ৩০ হাজার হেক্টরের মতো জমিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে অন্তত ৩০০ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ড. মামুনুর রহমান বলেন, “বন্যার পানি পুরোপুরি নামেনি। পানি নামলে আমরা মাঠে নেমে ক্ষতির হিসাব করব এবং তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।”
চরাঞ্চলের কৃষকরা এখন তাকিয়ে আছেন কৃষি বিভাগের সহায়তার দিকে। কারণ বর্ষার শুরুতেই এমন ক্ষতি হলে পরবর্তী আবাদ নিয়েও শঙ্কায় পড়তে হয় তাদের।
মতামত দিন