কৃষি আয়ে করমুক্ত সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ।
সোমবার (২ জুন) বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভিতে সম্প্রচারিত বাজেট বক্তৃতায় এই ঘোষণা দেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এই বাজেটই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট এবং দেশের ৫৪তম জাতীয় বাজেট। সংসদ না থাকায় বাজেট পেশ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে।
নতুন ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর হওয়া এই করমুক্ত সুবিধার আওতায় কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু পালনসহ প্রাসঙ্গিক খাতে বার্ষিক পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়কর ধার্য হবে না। ফলে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা এর সুফল পাবে।
অর্থ উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, "কৃষি বাংলাদেশের প্রাণ। কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদনে উৎসাহ বাড়াতেই এই ছাড় দেওয়া হচ্ছে।"
প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের (৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি) তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এটিই প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা, যেখানে বাজেটের আকার সংকুচিত করা হলো।
এই বাজেট ঘোষণার মধ্য দিয়ে আবারও ফিরে এলো ২০০৮ সালের একটি ইতিহাস। সেবারও সংসদের বাইরে বাজেট পেশ করা হয়েছিল, সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। তখনকার অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম ৯ জুন ২০০৮-০৯ অর্থবছরের জন্য বাজেট ঘোষণা করেছিলেন। সেদিনটিও ছিল সোমবার।
সরকার আশা করছে, কৃষি আয়ের ওপর কর ছাড়ের এ সিদ্ধান্তে উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতার লক্ষ্যে বড় অগ্রগতি হবে।

মতামত দিন