দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি হুমকিতে, প্রয়োজন টেকসই কৌশল ও প্রযুক্তি।
আজ বৃহস্পতিবার ২৯ মে ২০২৫:
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। খুলনায় অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে উঠে এসেছে এমন উদ্বেগজনক চিত্র—যেখানে জানানো হয়, উপকূলীয় এলাকায় ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জমির অনাবাদি হয়ে পড়া কৃষিক্ষেত্রকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বুধবার (২৮ মে) খুলনা কৃষি তথ্য সার্ভিস আঞ্চলিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও বিশেষজ্ঞরা।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির খুলনা অঞ্চলের কর্মকর্তা বিভাস চন্দ্র সাহা।সভাপতিত্ব করেন কৃষি তথ্য সার্ভিস, ঢাকার প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ বি এম রাশেদুল আলম।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ড. এস এম ফেরদৌস। তিনি সতর্ক করেন, “বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে উপকূলীয় এলাকায় কৃষি উৎপাদন ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ধানের উৎপাদন হ্রাস পাবে প্রায় ৮ শতাংশ এবং গম উৎপাদনে দেখা দিতে পারে ৩২ শতাংশ ঘাটতি।”
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো.নজরুল ইসলাম এবং ক্লাইমেট স্মার্ট প্রকল্পের পরিচালক শেখ ফজলুল হক মনি। বক্তারা জানান, প্রতিবছর প্রায় ৬৮ হেক্টর আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে, যা কৃষির ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি।
তাদের মতে, শুধু কৃষিকাজ নয়, বরং সমান্তরালভাবে মৎস্য চাষ, পশু পালনসহ বিকল্প জীবিকা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের মাঝে প্রযুক্তি ব্যবহারের সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং ফসল উৎপাদনের ডাটাবেজ তৈরি করে চাষের পরিকল্পনা সহজ করতে হবে।
এ সময় জলবায়ু সহনশীল টেকসই বাঁধ নির্মাণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে বিনিয়োগের আহ্বান জানান বক্তারা।
সেমিনারে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ উপলক্ষে ‘কৃষি কথা’ পত্রিকার গ্রাহক সংযোগে বিশেষ অবদানের জন্য ছয় জন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সনদপত্র এবং দুই জনকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
মতামত দিন