রাজশাহীতে আগাম আম পাকাতে ব্যবহার হচ্ছে ‘রাইপেনিং হরমোন’, জানালেন কর্তৃপক্ষ।
রাজশাহীর কিছু এলাকায় গাছের সব আম একসঙ্গে পাকাতে ও রং ধরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে এক ধরনের রাসায়নিক, যাকে বলা হচ্ছে ‘রাইপেনিং হরমোন’। ফল গবেষণাকেন্দ্র বলছে, পরিমাণমতো পরিপক্ব আমে ব্যবহার করলে এতে কোনো ক্ষতি নেই।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে,এর আগে টমেটোতে এই হরমোন প্রয়োগ করে পরীক্ষামূলকভাবে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে অনেক আমচাষি ও ব্যবসায়ী আমেও এই হরমোন ব্যবহার করছেন।
রাজশাহীতে ঘোষিত ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, গুটি জাতের আম ভাঙার সময় ১৫ মে, গোপালভোগ ২২ মে এবং ক্ষীরশাপাতি বা হিমসাগর আম বাজারজাতকরণ ৩০ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা। তবে এবার গোপালভোগ আম বাজারে আগে থেকে ভরে গেছে এবং নির্ধারিত সময়ের ১২ দিন আগেই ক্ষীরশাপাতি আম পাড়ার ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে।
গত শনিবার গোদাগাড়ী উপজেলার নোন্দাপুর চাত্রাপুকুর এলাকায় অপরিপক্ব ক্ষীরশাপাতি আমে ‘টম টম’ নামের হরমোন ছিটানো হয়েছে। এছাড়া কাঁকনহাট পৌর এলাকার সাহাপুর মহল্লায় গোপালভোগ আমেও একই ধরনের হরমোন প্রয়োগ করা হয়েছে। চাষিরা বলছেন, এই হরমোন স্বাস্থ্যগত ক্ষতিকর নয়, আমগুলো একসঙ্গে পাকবে, সুন্দর রং ধরবে এবং পচবে না। তারা আরও জানান, দেশেও এই হরমোন অনুমোদিত।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম আম পাড়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর কোনো কৃষক এখনো আগাম আম পাড়ার জন্য প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করেননি।
রাজশাহী ফল গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আম পাকাতে ও রং ধরাতে যে হরমোন ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি সহনীয় মাত্রায় প্রয়োগ করলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। তবে সহনীয় মাত্রা ঠিক করতে পরীক্ষামূলক কাজ প্রয়োজন।”
উম্মে সালমা, রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জানান, এই হরমোন ‘ইথোফেন’ জাতীয়। এটি সাধারণত টমেটোতে ব্যবহৃত হয় এবং পরীক্ষায় এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তিনি বলেন, “আমের পুরো ফুল আসতে প্রায় ২০ দিন সময় লাগে এবং সব আম একসঙ্গে পাকেনা। তবে বাণিজ্যিকভাবে আমের সব ফল একসঙ্গে পাকাতে অনেকেই এই হরমোন ব্যবহার করছেন, কিন্তু অবশ্যই পরিপক্ব আমে।”
তিনি আরও জানান, গোপালভোগ আম ভাঙার আগে কিছু দিন বাকি থাকলেও গাছে ইতোমধ্যে আম পাকতে শুরু করেছে। তবে ক্ষীরশাপাতি আম পাকতে এখনও সময় বাকি।
যারা অপরিপক্ব আমে হরমোন ব্যবহার করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই আম পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা পরীক্ষা করা হবে বলে জানান উম্মে সালমা।
এমন পরিস্থিতিতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের কঠোর মনিটরিং জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত দিন