কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

বাম্পার ফলনেও লাভের মুখ নেই: কোটালীপাড়ার কৃষকদের হতাশা।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় হতাশায় ভুগছেন কৃষকরা। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকটও দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোটালীপাড়ায় ২৬ হাজার ৭৯৪ হেক্টর জমিতে বোরো  ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৩১৪ মেট্রিকটন। আগের বছর আবাদ হয়েছিল ২৬ হাজার ৬১৭ হেক্টরে এবং উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৫ মেট্রিকটন। ফলে এবারের আবাদ ও উৎপাদন উভয়ই বেড়েছে।

তবে মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। স্থানীয় হাটে ধানের দাম মণপ্রতি ৯৫০ টাকার আশপাশে থাকায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা। পাশাপাশি শ্রমিক সংকটও সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

চিতশী গ্রামের কৃষক আহমেদ বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠছে না।’

একই অভিজ্ঞতা কুরপালা গ্রামের ওলি উল্লাহ শেখেরও। তিনি বলেন, ‘সব ধান একসাথে পাকায় শ্রমিক সংকটে পড়েছি। এখন একজন শ্রমিককে ১ হাজার টাকাও দিলে পাওয়া যাচ্ছে না।’

গুয়াখোলা গ্রামের কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রচুর ধান উৎপাদন হলেও সরকার সীমিত পরিমাণে ধান কেনে। ফলে বেশিরভাগ কৃষক সরকারি দর থেকে বঞ্চিত হন।’

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায় বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর আবাদ বেড়েছে ১৭৭ হেক্টর জমিতে। আমরা প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করেছি এবং নিয়মিত কৃষি পরামর্শ দিয়েছি।’

তিনি আরও জানান, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ৬০ মেট্রিকটন ধান সরকারিভাবে কেনা হবে। চাহিদার তুলনায় এটি কম হলেও কোটা বাড়ানোর জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এদিকে কৃষকদের দাবি, বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে এবং সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রম সম্প্রসারণ  না হলে ভবিষ্যতে বোরো আবাদ নিরুৎসাহিত হতে পারে।

মতামত দিন