ইসলামের আলো
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের হজে যেতে ৭৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

আগামী ২০২৬ সালের পবিত্র হজ পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত ৭৬ হাজারের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধনকারীদের বড় অংশই বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন সম্পন্ন করা মোট ৭৬ হাজার ৫৮০ জনের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭২ হাজার হজযাত্রী বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে এবং প্রায় সাড়ে চার হাজার হজযাত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছেন। চলতি বছর সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী গ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হজযাত্রীদের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, হজ গাইড, প্রশাসনিক ও কারিগরি সদস্যদের একটি দল সৌদি আরবে পাঠানো হবে। হজ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত এসব কর্মীর নামের তালিকা ইতোমধ্যে সৌদি সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

হজ অফিসের তথ্যমতে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত সংখ্যক হজযাত্রীর পাশাপাশি সরকারি কোটার আওতায়ও কয়েক হাজার হজযাত্রী এ বছর হজ পালন করবেন। সৌদি সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবরের মধ্যেই ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের চূড়ান্ত নিবন্ধন শেষ করতে হয়েছে। এর আগে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত এজেন্সি ও এয়ারলাইনসগুলোকে সব ধরনের নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যবিধি ও যাত্রী সেবার বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না।

সূত্র জানায়, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের বহনকারী ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সব হজযাত্রীর জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, হজ পালন নির্বিঘ্ন করতে শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যাত্রার আগেই হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হজযাত্রীরা ই-হজ প্ল্যাটফর্ম, লাব্বাইক অ্যাপ, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামী ফাউন্ডেশনের জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয় এবং রাজধানীর হজ অফিসগুলোতে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহনে তিনটি এয়ারলাইনস দায়িত্ব পালন করবে—বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস। ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রি-হজ ও মূল হজ ফ্লাইটে যাত্রী পাঠানোর নির্ধারিত অনুপাত মানতে এজেন্সিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে টিকিট ইস্যু বা ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন