ইসলামে মৃত্যুর পূর্বে কবর নির্ধারণের বিধান কি?
"প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং তোমাদের কর্মের পুরোপুরি প্রতিদান কিয়ামতের দিনই দেয়া হবে।
(সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
একজন মুসলমানের মৃত্যুর পর যত দ্রুত সম্ভব কাফন ও দাফন সম্পন্ন করা উচিৎ। হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত আলি (রা.)-কে বলেছেন:
"হে আলি! তিনটি বিষয়ে বিলম্ব করবে না:
১. নামাজের সময় হলে নামাজ আদায় করতে দেরি করবে না।
২. মৃত ব্যক্তির জানাজা উপস্থিত হলে কাফন-দাফন করতে দেরি করবে না।
৩. অবিবাহিতা মেয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্র পেলে তাকে বিয়ে করাতে দেরি করবে না।"
(তিরমিজি: ১/২০৬)
মৃত্যুর পরবর্তী ধাপ হলো কবর। অনেকেই জীবদ্দশায় নিজের কবরের জায়গা নির্ধারণ করতে চান। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কীভাবে দেখা হয়:
-
যদি কোনো জমি কবরস্থানের জন্য ওয়াকফ করা হয়, তবে সেখানে কোনো ব্যক্তি বিশেষের কবরের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা যাবে না। ওয়াকফের কারণে স্থানটি সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকে এবং জনকল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
-
তবে, কেউ নিজের মালিকানাধীন জমিতে কবরের জন্য জায়গা নির্ধারণ করতে চাইলে এতে কোনো সমস্যা নেই।
এ ধরনের ব্যবস্থা কোনো হাদিস দ্বারা সরাসরি প্রমাণিত নয়। তবে ইতিহাসে দেখা যায়, হজরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.) মৃত্যুর আগে ১০ থেকে ২০ দিন আগে নিজের কবরের জন্য জায়গা কিনেছিলেন।
(সিরাতে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ: ৯৯; সিয়ারু আলামিন নুবালা, খণ্ড ৫, পৃ. ১৪৪)
এই নিয়ম ও প্রমাণ ইসলামী শরিয়তে কবরের বিষয়ে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

মতামত দিন