মোবাইলে মৃত ব্যক্তির ছবি রাখা কি: ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি ও উলামাদের মতামতকি?
মানুষের জীবনে ভালোবাসা, সম্পর্ক আর স্মৃতির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রিয়জনের মুখাবয়ব, হাসি, কথা ও আচরণ হৃদয়ের গহীনে স্থায়ী ছাপ ফেলে।
তবে একজন মুসলমানের জীবনে আবেগ নয়, শরিয়তের বিধানই শেষ কথা। ইসলামে প্রতিটি কাজের আগে বিবেচনা করা হয়—এটি হালাল না হারাম? বৈধ না অবৈধ? আবেগ কিংবা সমাজের প্রচলিত রীতির চেয়ে বড় হয়ে দেখা দেয় আল্লাহর আদেশ ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ।
এই প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—মোবাইলে মৃত ব্যক্তির ছবি রাখা শরিয়তের দৃষ্টিতে কতটা গ্রহণযোগ্য? এটি কি আত্মার প্রশান্তির মাধ্যম, না গুনাহর পথ?
প্রখ্যাত ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, মোবাইল বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ধারণ করা ছবিকে কেন্দ্র করে উলামায়ে কেরামের মধ্যে দুইটি মত রয়েছে। একদল আলেম এসব ছবি বৈধ বলেছেন, আরেক দল বলেছেন অবৈধ। যারা বৈধ বলে মত দিয়েছেন, তাদের মতে মোবাইলে মৃতদের ছবি রাখা জায়েয। অন্যদিকে, যারা অবৈধের পক্ষে, তাদের মতে এটি জায়েয নয়। তবে প্রিন্ট করা বা আঁকা ছবি নিয়ে কোনো মতবিরোধ নেই—তা সবাই নাজায়েয বলে অভিমত দিয়েছেন।
এ বিষয়ে আরও একটি প্রশ্ন আসে—মোবাইলে মৃত ব্যক্তির ছবি দেখা গুনাহ কি না? শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যদি মৃত ব্যক্তির ছবি মোবাইলে থাকে এবং কেউ তা দেখতে চান, তবে পুরুষ পুরুষের এবং নারী নারীর ছবি দেখলে কোনো গুনাহ হবে না। মাহরাম নারীদের ছবিও দেখা যাবে। তবে মৃতদের ছবি প্রিন্ট করে ঘরে ঝুলিয়ে রাখলে তা গুনাহর মধ্যে পড়বে।
হাদিস শরিফে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবী (সা.) একবার কাবাঘরে প্রবেশ করলেন। সেখানে তিনি ইবরাহিম (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-এর ছবি দেখতে পেলেন। তখন তিনি বলেন, তাদের কী হলো? অথচ তারা তো শুনতে পেয়েছে, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকবে, সে ঘরে ফেরেশতারা প্রবেশ করেন না। এই যে ইবরাহিমের ছবি বানানো হয়েছে, (ভাগ্য নির্ধারক অবস্থায়) তিনি কেন ভাগ্য নির্ধারক তীর নিক্ষেপ করবেন! (বোখারি : ৩৩৫১)
মতামত দিন