ইসলামের আলো
ছবি: সংগৃহীত

উপুড় হয়ে ঘুমানো ইসলামে কেন নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর?

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ঘুম আল্লাহর এক অপার নেয়ামত। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য পরিমিত ঘুমের বিকল্প নেই।

যারা ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন, তারা ভালো বুঝতে পারেন এই নিয়ামতের গুরুত্ব। অনেকেই অভ্যাস হিসেবে উপুড় হয়ে ঘুমাতে স্বস্তি অনুভব করেন, আবার কেউ আবার উপুড় না হয়ে যেন ঘুমই আসে না।

তবে, এই অভ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর হওয়াসহ ইসলামের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়। উপুড় হয়ে শোয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতা, মেরুদণ্ডে সমস্যা, হজমে ব্যাঘাত এবং ঘুমের গুণগত মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই ভঙ্গিতে ঘুমানো নবী করিম হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দ্বারা নিষিদ্ধ। হাদিসে এর দুটি কারণ উল্লেখ রয়েছে। প্রথমত, আল্লাহ্‌ তা‘আলা এ ধরণের শোয়ার ভঙ্গি পছন্দ করেন না। দ্বিতীয়ত, এটি জাহান্নামের লোকদের ঘুমানোর ধরন।

হজরত ইবনে তিখফা আল-গিফারি (রহ.) বর্ণনা করেন, তাঁর বাবা বলতেন, ‘আমি আসহাবে সুফফার একজন ছিলাম। এক রাতে মসজিদে উপুড় হয়ে ঘুমিয়েছিলাম। তখন কেউ পায়ে আঘাত করে আমাকে জাগিয়ে বলল, “ওঠো! আল্লাহর অপছন্দ এমনভাবে শোয়া।” আমি ঘাড় তুলে দেখি, প্রিয় নবী (সা.) আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।’ (আদবুল মুফরাদ: ১১৯৯)

অন্য এক হাদিসে আবু জর (রা.) বলেন, একবার আমি উপুড় শুয়ে ছিলাম। রাসুল (সা.) পাশ কাটিয়ে গিয়ে আমাকে ঠেলে বললেন, “হে জুনাইদিব! এটা তো জাহান্নামের শয়নভঙ্গি।” (ইবনে মাজাহ: ৩৭২৪)

রাসুল (সা.) যেভাবে এই ভঙ্গিকে ‘জাহান্নামের শয়ন’ বলেছেন, তা কোরআনের আয়াতের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ। আল্লাহ্‌ তাআলা ইরশাদ করেন, “যেদিন তাদের উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের দিকে,  সেদিন বলা হবে—জাহান্নামের যন্ত্রণা উপভোগ কর।” (সুরা আল-কামার: ৪৮)

তাহলে করণীয় কী? আমাদের উচিত এমন অভ্যাস থেকে বিরত থাকা যা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) অপছন্দ করেন। উপুড় হয়ে ঘুমানো এমনই একটি অভ্যাস, যা ইসলাম ও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ক্ষতিকর। তাই নবীর সুন্নাহ অনুযায়ী ঘুমানো উচিত।

বারা ইবনে আজিব (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, “যখন তুমি বিছানায় যাবে, তখন নামাজের অজুর মতো অজু করবে, তারপর ডান পাশে শুয়ে পড়বে।” (বোখারি: ২৪৭)

মতামত দিন