অসুস্থতায় করণীয়: রাসুল (সা.)-এর দোয়া ও আল্লাহর ওয়াদা।
সুস্থতা মানুষের জন্য এক অমূল্য নিয়ামত, যা আল্লাহর পক্ষ থেকেই দান। আবার অসুস্থতা—এটিও আল্লাহরই পক্ষ থেকে পাঠানো এক পরীক্ষা।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা অসুস্থতা বা বিপদে পড়লে তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যখন কেউ আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই। সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে—তাহলে তারা সফল হবে।’ (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)
আরও বলা হয়েছে, ‘যারা আমার রাস্তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, তাদের আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করি। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গেই থাকেন।’ (সূরা আনকাবুত, আয়াত: ৬৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর শরণ নিতেন। সাহাবি আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবীজি (সা.) দোয়া করতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَالْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল ঝুজামি, ওয়া সাইয়্যিয়িল আসক্বাম।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাই শ্বেতরোগ, উন্মত্ততা, খুজলি-পাঁচড়া এবং যাবতীয় কঠিন রোগ থেকে। (আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৫৪)
মুমিনের জীবনে রোগের আগমন আল্লাহর রহমতের মাধ্যমও হতে পারে। কেননা, বিভিন্ন হাদিসে এসেছে—যখন একজন মুসলমান কোনো দুঃখ-কষ্টে পড়ে, অসুস্থ হয় কিংবা চিন্তিত থাকে, এমনকি একটি কাঁটা দিয়ে আহত হয়, তখন আল্লাহ তায়ালা এর মাধ্যমে তার পাপ মোচন করে দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২৩৯)
দোয়া কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত
দোয়া কবুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত রয়েছে। যেমন—হালাল ও পবিত্র জীবিকা অর্জন করা, হারাম উপার্জন ও খাদ্য থেকে নিজেকে দূরে রাখা। সবসময় আল্লাহর কাছেই চাওয়া এবং বেশি করে চাওয়া, সুখে-দুঃখে তাঁর দিকে মনোযোগী হওয়া।
দোয়ার সময় আল্লাহর গুণবাচক নাম ব্যবহার করা, ও ইসমে আজম দ্বারা দোয়া করা।মনোযোগ ও আন্তরিকতা থাকা, কেবল কল্যাণের বিষয় প্রার্থনা করা, দোয়ার ফল দ্রুত না পাওয়ায় হতাশ না হওয়া এবং মনে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা—আল্লাহ নিশ্চয়ই তা কবুল করবেন।

মতামত দিন