ইসলামের দৃষ্টিতে নখ বড় রাখা কতটা গ্রহণযোগ্য?
বর্তমান সময়ে আমরা দেখতে পাই, সৌন্দর্য ও ফ্যাশন নিয়ে মানুষের আগ্রহ অনেক বেড়ে গেছে। একেক সময় একেক রকম ট্রেন্ড আসে, কেউ সেটা অনুসরণ করেন শুধু নতুন কিছু চেষ্টা করার জন্য, আবার কেউ শখ বা ব্যক্তিগত রুচির কারণেই করেন।
এই বিষয়ে ইসলামী শরিয়াহর দৃষ্টিভঙ্গি বেশ স্পষ্ট। অধিকাংশ ফিকাহ বিশেষজ্ঞ বড় নখ রাখাকে নাজায়েজ বলে থাকেন। বরং নিয়মিত নখ কেটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা নবীদের পন্থা বা ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত।
হাদিস শরিফে হজরত মুহাম্মদ (সা.) স্পষ্ট ভাষায় পাঁচটি বিষয়কে ফিতরাতের অঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করেছেন: খৎনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, নখ কাটা, বগলের লোম তুলে ফেলা এবং গোঁফ ছোট রাখা। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৯২)
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, নখ, গোঁফ, বগলের লোম ও নাভির নিচের লোম কাটায় ৪০ দিনের বেশি দেরি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (মুসলিম, হাদিস: ২৫৮) এটি আমাদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং ইসলামি নিয়মচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
ইমাম নববী (রহ.)-এর মতে, নখ কাটা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সুন্নাত। (আলমাজমুউ: ১/৩৩৯)
এ ছাড়া, যাঁরা অজু নিয়ে সচেতন, তাঁদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—নখ বড় থাকলে অনেক সময় গোড়ায় পানি পৌঁছায় না, ফলে অজু শুদ্ধ হয় না। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ২২)
একটি ঘটনা বিশেষভাবে না বললেই নয়। আবু ওয়াসিল নামের একজন ব্যক্তির বর্ণনা থেকে জানা যায়, তিনি একবার আবু আইয়ুব (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তাঁর বড় নখ দেখে তিনি বলেছিলেন— রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কেউ কেউ আসমানের খবর জানতে চাও, অথচ তোমার নিজের নখ পাখির নখের মতো, যেখানে ময়লা জমে থাকে!’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২৩২১১)
এই হাদিসগুলো শুধু ধর্মীয় নির্দেশনা নয়, বরং স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার দিক থেকেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, নখ বড় রাখাকে যদি ফ্যাশনের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়, তবে সেটি ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে খাপ খায় না। বরং পরিচ্ছন্নতা, সুন্নতের অনুসরণ এবং স্বাস্থ্যগত বিবেচনায় ছোট ও পরিপাটি নখ রাখা অনেক বেশি শ্রেয়।

মতামত দিন