“আশুরার দিনে ইসলামের ইতিহাস, চেতনা, গুরুত্ব ও তাৎপর্য”
মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-কে প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি, জান্নাতে অবস্থান, পৃথিবীতে প্রেরণ ও তওবা কবুল—সবই আশুরার তারিখে সংঘটিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বহু নবীকে অত্যাচারীদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন আশুরার দিনে।
আশুরার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
১. আল্লাহ তাআলা এ দিন পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। আকাশমালা, মর্তজগৎ, পর্বতরাজি, লওহ-কলম ও ফেরেশতাদের সৃষ্টি এবং নিজের আরশে আজিমে অধিষ্ঠান—সবই আশুরার দিনে সংঘটিত। এছাড়া কিয়ামত ঘটার দিনও আশুরার দিনই হবে।
২. মহান আল্লাহ আদিপিতা আদম (আ.)-কে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর তওবা কবুল করেছেন। এ দিন মানবজাতির মা হাওয়া (আ.)-এর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ হয় আরাফার ময়দানে।
৩. নবী নুহ (আ.)-এর জাতির পাপের জন্য মহান আল্লাহ মহাপ্লাবনের শাস্তি দিয়েছিলেন। ১০ মহররম নৌকা থেকে ইমানদাররা পৃথিবীতে ফিরে আসেন।
৪. নবী ইবরাহিম (আ.)-কে নমরুদ অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করেছিল। ৪০ দিন থাকার পর ১০ মহররম মুক্তি লাভ করেন।
৫. নবী আইয়ুব (আ.) ১৮ বছর কঠিন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। আশুরার দিনে তিনি সুস্থতা লাভ করেন।
৬. নবী ইউসুফ (আ.)-কে তাঁর ১১ ভাই ষড়যন্ত্র করে কূপে ফেলে দিয়েছিল। পরে তিনি মিসরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ লাভ করেন এবং ৪০ বছর পর বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা ছিল ১০ মহররমের দিন।
৭. নবী ইউনুস (আ.) বড় মাছের পেটে ৪০ দিন থাকার পর ১০ মহররম মুক্তি পান।
৮. নবী মুসা (আ.) ফেরাউনের জুলুম থেকে বাঁচতে নীল নদ পেরিয়ে নিরাপদে পৌঁছান, ফেরাউন নদীতে ডুবে মারা যান।
৯. নবী ঈসা (আ.)-কে হত্যা চেষ্টা থেকে রক্ষা পেতে ১০ মহররম আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়।
১০. কারবালার মর্মান্তুদ ঘটনা, যেখানে আল্লাহর নবী (সা.)-এর নাতি হজরত হোসাইন (রা.) ১০ মহররম কারবালা প্রান্তরে শাহাদাত বরণ করেন।
“শুধু কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১০ মহররমকে শোকের জন্য বেছে নেওয়া উচিত নয়।”
— ইমদাদুল মুফতিয়িন: ১/৯৬
মতামত দিন