হিজরি নববর্ষেই পরিবর্তন হবে কাবার গিলাফ।
কালো রেশমের কাপড়ে তৈরি এই গিলাফের গায়ে সোনালি প্রলেপে লেখা থাকে কোরআনের আয়াত। সৌদি আরবের একটি বিশেষায়িত কারখানায় দীর্ঘসময় ধরে দক্ষ কারিগরদের শ্রমে তৈরি হয় কাবার গিলাফ, যেটিকে বলা হয় ‘কিসওয়া’।
প্রতিবছর সূক্ষ্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বহু অভিজ্ঞ ক্যালিগ্রাফার ও প্রযুক্তিবিদ অংশ নেন।
যেভাবে প্রস্তুত হয় গিলাফ
কিসওয়া তৈরির পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন হয় মোট দশটি ধাপে। শুরুতে রেশম ও সুতার গুণগত মান নিরীক্ষণের পর সেগুলোতে রঙ করা হয় এবং কাপড় বোনা হয় স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে। পরে কাপড়ের স্থায়িত্ব যাচাই করা হয়।
মোট ৬৫৮ বর্গমিটার আয়তনের গিলাফ তৈরিতে ৬৭০ কেজি কালো রেশম ব্যবহৃত হয়। ৪৭টি কাপড়ের টুকরো সেলাই করে গঠন করা হয় মূল কাঠামো। এরপর ‘ইয়া আল্লাহ’, ‘ইয়া মান্নান’, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি’ সহ বিভিন্ন বাক্য সোনালি প্রলেপে লেখা হয়।
পরে এগুলো পৌঁছে দেওয়া হয় গিল্ডিং ও এমব্রয়ডারির বিভাগে। সেখানে দক্ষ শিল্পীরা কাবার দরজার পর্দা এবং সোনার বেল্ট তৈরি করেন। এই কাজে অংশ নেন ৫০ জনের বেশি অভিজ্ঞ কারিগর, যাদের বয়স ২৩ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
এমব্রয়ডারিতে ব্যবহৃত হয় প্রায় ১০০ কেজি খাঁটি রুপা এবং ১২০ কেজি সোনায় প্রলেপ দেওয়া রুপার সুতা। পাঁচটি আলাদা অংশে গঠিত হয় কিসওয়া—চারটি দেয়ালের জন্য এবং একটি দরজার জন্য। এগুলোতে সেলাই করা হয় সুরা ফাতিহা, কুরাইশ, ফালাক, নাসসহ বিভিন্ন আয়াত ও দোয়া।
প্রথমে কাবায় টানা হয় সাদা কাপড়, তারপর তার ওপর বসানো হয় কালো রেশম। এমব্রয়ডারির জন্য কাপড় টেনে শক্ত করে নিচে সাদা সুতায় ভরাট করা হয়। এরপর সোনা-রুপার সুতা দিয়ে আয়াত ও আল্লাহর ১৭টি নাম সম্বলিত আলোকবিন্দু আকৃতির অলংকরণ করা হয়।
গিলাফে আরবি ভাষায় লেখা থাকে ‘মক্কা আল-মোকাররমা’, বর্তমান হিজরি সন এবং সৌদি বাদশাহর নাম। পুরো এমব্রয়ডারি সম্পূর্ণ হতে সময় লাগে আট থেকে দশ মাস। এরপর প্রতিটি অংশ একত্র করে গঠন করা হয় পূর্ণ গিলাফ, যা পরে কাবা শরিফে ঝোলানো হয়।

মতামত দিন