আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত মুসলিম বিশ্ব।
সকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ঈদের জামাতে অংশ নিতে মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে ঢল নামে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের। রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত। নামাজে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। নামাজ শেষে খুতবায় কোরবানির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।বায়তুল মোকাররম মসজিদে এদিন পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহে একত্রে ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ড, থানাভিত্তিক ঈদগাহ এবং বিভিন্ন মসজিদেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ হলগুলোতেও সকাল থেকে ঈদের জামাত হয়েছে সুশৃঙ্খল পরিবেশে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, প্রতিকূল আবহাওয়া বিবেচনায় ঈদগাহের বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয় বায়তুল মোকাররম মসজিদকে, যেখানে সকাল ৭টা থেকে ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন ঈদের নামাজ আদায়ের পর মুসলমানরা কোরবানির পশু জবাইয়ের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী,কোরবানির মাংস তিন ভাগ করে তার এক তৃতীয়াংশ গরিবদের মধ্যে বিতরণ বাধ্যতামূলক। ইসলাম মতে, সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব,তবে ঈদের দিন ছাড়াও পরবর্তী দুই দিন, অর্থাৎ আগামী সোমবার আসরের সময় পর্যন্ত কোরবানি করা যাবে।
এদিকে পবিত্র হজ সম্পন্ন করেছেন বিশ্বের লাখো মুসলমান। হিজরি ১০ জিলহজ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার আরাফাতের ময়দানে অবস্থান এবং শুক্রবার মিনায় কোরবানির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা।সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শুক্রবারই ঈদুল আজহা পালিত হয়,যাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের কয়েকটি এলাকাতেও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগেভাগে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে।
ঈদুল আজহার ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশে তার প্রাণপ্রিয় সন্তান ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হলে,আল্লাহ তাঁর আনুগত্য দেখে সন্তুষ্ট হয়ে ইসমাইলের পরিবর্তে একটি পশু কোরবানি করার আদেশ দেন। সেই ত্যাগের স্মৃতি রক্ষায় আজও মুসলমানরা কোরবানি দিয়ে থাকেন।
বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর জন্য এ দিনটি কেবল উৎসবের নয়, বরং ত্যাগ,আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মানবিকতার চর্চার দিন হিসেবেও বিবেচিত হয়। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখীদের সঙ্গে কোরবানির আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামের সাম্য ও সহানুভূতির শিক্ষা।

মতামত দিন