আরাফার দিনের শ্রেষ্ঠতম দোয়া ও তার ফজিলত,যে দোয়া পড়তে বলেছেন রাসুল (সা.)।
এই দিনে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আগত হজযাত্রীরা সাদা এহরামে আবৃত হয়ে আরাফাতের প্রান্তরে জড়ো হন। নির্জন মরুপ্রান্তর কেঁদে ওঠে তাওবার সুরে, আল্লাহর দরবারে কান্নাভেজা কণ্ঠে ক্ষমা চাওয়ার দৃশ্যে। আর চারপাশ মুখরিত হয় এক মহান ধ্বনিতে—
"লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক..."
এই দিনে আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অবারিত রহমতের দরজা খুলে দেন। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আরাফার দিনের মতো আর কোনো দিন এত অধিক সংখ্যক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না।” এদিন আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করে বলেন, “দেখো তো, আমার বান্দারা কী চায়!”
তাওবা, আত্মশুদ্ধি, রহমত ও মুক্তির এই মহাসুযোগ শুধু আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হাজীদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়—বরং এই দিনটি প্রত্যেক মুসলমানের জন্যই আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক দুর্লভ উপলক্ষ।
হাদিসে আরাফার দিনের দোয়াকে শ্রেষ্ঠ দোয়া বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো আরাফার দিনে করা দোয়া। আর সর্বোত্তম দোয়া হলো এই দোয়া যা আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ করেছেন।”
দোয়াটি হলো:
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাই’ইন কাদির।”
অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।”
এই মহিমান্বিত দিনে রোজা রাখা, দোয়া করা ও ইবাদতে মগ্ন হওয়া—একজন মুমিনের জন্য সীমাহীন রহমত ও মাগফিরাত অর্জনের বিরল সুযোগ।
আসলে ইয়াওমুল আরাফা শুধু একটি তারিখ নয়—এটি আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়ার, পাপ মোচনের এবং হৃদয় পবিত্র করার এক মহান উপলক্ষ। এক মহাজাগতিক আলো ছায়ার দিন, যে দিনে আল্লাহর করুণা ও দয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, আর বান্দা পরিণত হয় এক নবজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ ও পরিচ্ছন্ন অন্তরের মানুষে।
মতামত দিন