মক্কায় শুরু হজের আনুষ্ঠানিকতা,‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত মিনা।
হজের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, যা হজের মূল অনুষঙ্গ। এরপর ১০ জিলহজ কোরবানির মাধ্যমে পালিত হবে ঈদুল আজহা। ঈদের পরের দুই দিন মিনা, মুজদালিফা ও জামারায় পাথর নিক্ষেপসহ চলবে হজের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচ দিনব্যাপী এ ইবাদতে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত হাজিরা।
ড. মোহাম্মদ আল-কারনি, হজ ও ওমরাহ বিভাগের মহাপরিচালক জানান, এ বছর আন্তর্জাতিক হাজির সংখ্যা ১৪ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আরও কয়েক লাখ সৌদি অভ্যন্তরীণ হাজি। হাজিদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে তাওয়াফুল কুদূম সম্পন্ন করে মিনার পথে যাত্রা করেছেন মঙ্গলবার রাতেই।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত চলছে মিনায় যাওয়ার কার্যক্রম। এরপর বৃহস্পতিবার (৯ জিলহজ) সকালে আরাফাতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন হাজিরা। এ যাত্রায় তিন ধরনের পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ হাজিকে আরাফাতে পৌঁছানো হবে—মাশায়ির ট্রেনে ৩ লাখ ১৬ হাজার, বহুমুখী পরিবহনে ৩ লাখ ৭০ হাজার এবং ঐতিহ্যবাহী পরিবহনে ৩ লাখ ৫০ হাজার।
মিনা অঞ্চলের ঐতিহাসিক আল-খায়ফ মসজিদে হাজিদের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, দাওয়াহ ও গাইডেন্স মন্ত্রণালয়। ২৭ হাজার বর্গমিটার এলাকায় বিস্তৃত জায়নামাজ ছাড়াও এবার মসজিদটিতে চালু হয়েছে উন্নত কুলিং ব্যবস্থা, স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় বায়ুপরিবেশনের সুবিধা। এসব ব্যবস্থায় হাজিদের আরাম নিশ্চিত করা হবে।
চলমান প্রচণ্ড গরমকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় এবার অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ড. আব্দুল্লাহ আসির জানিয়েছেন, হজ উপলক্ষে ৫০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনিক জনবল নিয়োজিত হয়েছে, যা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৭০০টিরও বেশি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত হাসপাতালের শয্যা, যেখানে তাপজনিত অসুস্থতার তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।
সার্বিক ব্যবস্থাপনার এই ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে বিশ্বের মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ইবাদত হজ শুরু হলো, যেখানে আধ্যাত্মিকতা, ঐক্য এবং ত্যাগের বার্তা নিয়ে মিলিত হচ্ছেন লাখো মানুষ।
মতামত দিন