ইসলামের আলো
ছবি: সংগৃহীত

যেসব কারণে কোরবানি কবুল হয় না: সচেতন হোন গুরুত্বপূর্ণ ভুল থেকে।

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের অন্যতম উপায় হলো কোরবানি। সামর্থ্যবানদের জন্য নির্দিষ্ট দিনে কোরবানি করা ওয়াজিব।

তবে শুধুমাত্র টাকা খরচ করলেই কোরবানি আদায় হয় না— কিছু ভুলের কারণে আমাদের অজান্তেই কোরবানি অগ্রহণযোগ্য হয়ে যেতে পারে।

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো— একনিষ্ঠ নিয়ত। যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে লোক দেখানো বা প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোরবানি করা হয়, তবে তা আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে না। সহিহ বুখারির প্রথম হাদিসে এসেছে: ওয়া ইন্নামা লিকুল্লিম্‌রি-ইম্‌ মা নাওয়া— অর্থ: নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যা সে নিয়ত করে। তাই নিয়তের ভেতরে সামান্যও গলদ থাকলে, বড় পশু কোরবানিও কবুল হবে না।

তদুপরি, কোরবানির অর্থ অবশ্যই হালাল হতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন: ‘আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল জিনিস ছাড়া গ্রহণ করেন না।’ (মুসলিম ১০১৫)। অর্থাৎ, হারাম উপার্জনের অর্থ দিয়ে কোরবানি করলে তা কোনোভাবেই গৃহীত হবে না।

পশুর বয়সও শরিয়তের নির্ধারিত সীমার মধ্যে হতে হবে।

  • উট: ৫ বছর

  • গরু/মহিষ: ২ বছর

  • ছাগল: ১ বছর

  • ভেড়া/দুম্বা: ১ বছর (তবে সংকটে ৬ মাসে গ্রহণযোগ্য)

ত্রুটিপূর্ণ পশু দিয়ে কোরবানি জায়েজ নয়। যেমন—

  • স্পষ্টভাবে অন্ধ

  • গুরুতর রোগে আক্রান্ত

  • স্পষ্ট পঙ্গু

  • হাড় ভাঙা বা অঙ্গহানি আছে এমন পশু

জবাইয়ের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বিসমিল্লাহ’ না বললে কোরবানি সহিহ হবে না।যদি ভুলে বিসমিল্লাহ না বলে, তাহলে কোরবানি হয়ে যাবে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শরিক নির্বাচন। যদি জেনেশুনে হারাম উপার্জনকারীকে কোরবানিতে শরিক করা হয়, তবে অন্যদের কোরবানিও বাতিল হয়ে যাবে।

সুতরাং, নিয়ত, হালাল উপার্জন, শরিয়ত অনুযায়ী পশু নির্বাচন এবং অন্যান্য নির্দেশনা যথাযথভাবে মানলে তবেই কোরবানি কবুলের আশা করা যায়।

মতামত দিন