কোরবানির পশু নির্বাচনে সতর্কতা জরুরি: যেসব দোষে কোরবানি গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে এই ইবাদত পালনের সময় কোরবানির পশু নির্বাচনে কিছু নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে মানতে হয়। কোরবানির পশুতে কিছু নির্দিষ্ট ত্রুটি বা দোষ থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হয় না। নিচে এমন কিছু দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা হলো, যেগুলোর যেকোনো একটি থাকলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি দেওয়া যাবে না:
১. চোখে দৃষ্টি না থাকা (অন্ধ হওয়া)।
২. কানে শ্রবণক্ষমতা না থাকা।
৩. এতটাই দুর্বল ও জীর্ণ-শীর্ণ হওয়া যে পশুটি কার্যত অচল।
৪. এমন পঙ্গু হওয়া যে জবাইয়ের স্থানে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যেতে অক্ষম।
৫. লেজের অধিকাংশ অংশ কাটা থাকা।
৬. জন্মগতভাবে কান না থাকা।
৭. কানের বেশির ভাগ অংশ ছিন্ন বা কাটা।
৮. গোড়া থেকে শিং উপড়ে যাওয়া।
৯. মানসিক ভারসাম্যহীনতা বা পাগলামি, যার ফলে পশুটি ঠিকমতো ঘাস বা পানি খেতে পারে না।
১০. মুখে দাঁত না থাকা বা অধিকাংশ দাঁতের ক্ষয় বা পতন।
১১. রোগের কারণে স্তনে দুধ না থাকা বা দুধ শুকিয়ে যাওয়া।
১২. ছাগলের দুটি স্তনের যেকোনো একটি কাটা থাকলে।
১৩. গরু বা মহিষের চারটি স্তনের মধ্যে দুটি কাটা থাকলে।
সারকথা, কোরবানির জন্য যে পশু নির্বাচিত হবে,সেটি অবশ্যই বড় ধরনের শারীরিক ত্রুটি ও রোগমুক্ত হতে হবে। কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্পষ্টভাবে বলেছেন—চার ধরনের পশু কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়:
১. এমন অন্ধ, যার অন্ধত্ব স্পষ্ট।
২. এমন রোগাক্রান্ত, যার অসুস্থতা চোখে পড়ার মতো।
৩. এমন পঙ্গু, যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট।
৪. এমন আহত, যার অঙ্গ ভেঙে গেছে।
(হাদিস: ইবনে মাজাহ, ৩১৪৪)
সুতরাং কোরবানির ইবাদত পালনে নিয়তের পাশাপাশি পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক, যেন এই ইবাদত আল্লাহর কাছে গৃহীত হয়।

মতামত দিন