ইসলামের আলো
ছবি: সংগৃহীত

বৃষ্টি আল্লাহর রহমতের নিদর্শন ও নবীজির সুন্নাতি আমল।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আজ শুক্রবার,৩০ মে ২০২৫:

বৃষ্টি মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমতের এক নিদর্শন। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ পৃথিবীতে কল্যাণ, শান্তি ও রিজিকের ব্যবস্থা করেন।

প্রকৃতি হয় সজীব, প্রাণ ফিরে পায় জনজীবন। মানুষ থেকে শুরু করে সব প্রাণীর জীবিকা ও খাদ্যনির্ভরতা এ বৃষ্টির ওপরই নির্ভরশীল।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বৃষ্টি নিয়ে বলেন,

“আর আমি আকাশ থেকে বরকতময় পানি বর্ষণ করি, অতঃপর তা দ্বারা বাগ-বাগিচা ও কর্তনযোগ্য শস্য উৎপন্ন করি।”

সুরা কাফ, আয়াত: ৯

নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়েও বৃষ্টি হতো, আর রাসুল (সা.) এই সময়টি যথাযথভাবে গুরুত্ব দিতেন। বৃষ্টির সময় রাসুল (সা.) কিছু আমল আমাদের জন্য অনুকরণীয়। নিচে বর্ণনা করা হলো বৃষ্টির সময়  রাসুল (সা.) এর চারটি গুরুত্বপূর্ণ আমল:

১. বৃষ্টির সময় দোয়া করা

বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সময় হিসেবে গণ্য। হাদিসে এসেছে,

“বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হয়ে থাকে।”

(আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৪০)

২. বৃষ্টির পানি স্পর্শ করা

সাহাবি হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত,

“আমরা একবার নবীজির সঙ্গে ছিলাম, এমন সময় বৃষ্টি নামল। তিনি তখন কাপড় কিছুটা সরিয়ে দিলেন, যাতে বৃষ্টির পানি তাঁর শরীরে লাগে। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ‘হে আল্লাহর রসুল! এমন কেন করলেন?’ তিনি বললেন, ‘এটা আমার প্রভুর পক্ষ থেকে এসেছে এবং এখনই এসেছে।’”

(মুসলিম, হাদিস: ১৯৬৮)

৩. উপকারী বৃষ্টির জন্য দোয়া করা

বৃষ্টির সময় নবীজি এই দোয়াটি করতেন:

“আল্লাহুম্মা সয়্যিবান নাফিআহ।”

(অর্থ: হে আল্লাহ! এ বৃষ্টিকে প্রবাহমান ও উপকারী করে দাও)।

(নাসায়ি, হাদিস: ১৫২৩)

৪. অতিবৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে দোয়া করা

যখন অতিরিক্ত বৃষ্টি হতো, তখন নবীজি দোয়া করতেন:

“আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা।”

(অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের ওপর নয়, আমাদের আশপাশে বৃষ্টি বর্ষণ করো)।

(নাসায়ি, হাদিস: ১৫২৭)

এ দোয়ার মাধ্যমে উদ্দেশ্য ছিল যেন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ক্ষতি না হয়ে,আশপাশের ফাঁকা বা খোলা জায়গায় বৃষ্টি হয়।

উপসংহার:

বৃষ্টি শুধুই এক প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং তা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ এক নেয়ামত। বৃষ্টির সময় নবীজির এসব আমল অনুসরণ করলে যেমন সুন্নাত পালন হবে, তেমনি তা হতে পারে বরকতময় ও নিরাপদ বৃষ্টির মাধ্যম।

মতামত দিন