আরাফার রোজা কয়টি,আরাফার দিনে রোজার ফজিলত কী?
ইসলাম,আজ বুধবার ২৮ মে ২০২৫:
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে হজের আনুষ্ঠানিকতা। এই মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর একটি হলো ৯ জিলহজ—আরাফার দিন।
চলতি বছর সৌদি আরবে ৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে আরাফার সম্মেলন। ওই দিনই হজ পালনকারীরা আরাফাতের ময়দানে জমায়েত হবেন,যা হজের অন্যতম মূল স্তম্ভ। এ উপলক্ষে বিশ্বের মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন করবেন। যারা হজে যাচ্ছেন না, তারাও আরাফার দিন রোজা রেখে নেকি অর্জনের আশায় থাকবেন।
আরাফা শব্দের অর্থ ‘জানা’ বা ‘পরিচয় হওয়া’। হাদিস অনুযায়ী, পৃথিবীতে অবতরণের পর হজরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) প্রথম একে অপরের সঙ্গে এই দিনেই দেখা করেন। ফলে দিনটি পরিচয়ের দিন, তওবার দিন, ক্ষমা প্রার্থনার দিন হিসেবেও বিবেচিত হয়।
হাদিসে আরাফার দিনের রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। মুসলিম শরিফে হাদিস বর্ণিত হয়েছে—নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “আমি আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা রাখি, আরাফার দিনের রোজার কারণে তিনি আগের বছরের ও পরের বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।” (মুসলিম : ১১৬২) একই সঙ্গে, আবু দাউদ শরিফে রয়েছে, নবীজি নিজেও ৯ জিলহজ রোজা রাখতেন। (আবু দাউদ : ২৪৩৭)
এ ছাড়া ইসলামী সমাজে জিলহজ মাসের প্রথম ৯ দিন পর্যন্ত রোজা রাখার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। কোরআনের সুরা ফজরের দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ বলেছেন—“শপথ দশ রাতের”। অধিকাংশ তাফসিরবিদদের মতে,এখানে বলা ‘দশ রাত’ মানে জিলহজের প্রথম দশ দিনরাত, যা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, “জিলহজের প্রথম দশ দিনে নেক আমল আল্লাহর কাছে যত প্রিয়, অন্য কোনো সময়ের আমল এত প্রিয় নয়।” সাহাবিরা তখন জিজ্ঞেস করেন, “আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়?” উত্তরে তিনি বলেন, “না, এমনকি জিহাদও নয়—তবে সে ব্যক্তি ব্যতিক্রম,যে নিজের জীবন ও সম্পদ নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে পড়ে এবং কিছুই নিয়ে আর ফিরে আসে না।” (বুখারি : ৯৬৯)
এই আয়াত ও হাদিসগুলো প্রমাণ করে, জিলহজের শুরু থেকে আরাফার দিন পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তই আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত, আরাফার রোজা পালন করে যেমন অতীত গুনাহ ক্ষমা লাভের আশায় থাকা যায়, তেমনি তা আত্মিক উন্নয়নের এক অপূর্ব সুযোগও।
মতামত দিন