ইসলামের আলো
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহার দিনক্ষণ নির্ধারণে বৈচিত্র্য: কোথায় কবে উদযাপন।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইসলাম,আজ বুধবার ২৮ মে ২০২৫:

বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা সামনে রেখে নানা দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদের তারিখ ঘোষণা করেছে। অঞ্চলভেদে পার্থক্য থাকলেও, অধিকাংশ দেশেই আগামী ৬ অথবা ৭ জুন ঈদ উদযাপিত হবে।

৬ জুন ঈদ উদযাপন করবে যেসব দেশ:

মঙ্গলবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও ওমানে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে এসব দেশে ২৮ মে থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হয়েছে এবং ১০ জিলহজ অনুযায়ী ঈদুল আজহা পালিত হবে ৬ জুন শুক্রবার। একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় মুফতির দপ্তরও ৬ জুন দেশটিতে ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে, কেননা সেখানেও একইদিনে চাঁদ দেখা গেছে।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়াতেও মঙ্গলবার চাঁদ দেখা যাওয়ায় ৬ জুন ঈদের দিন নির্ধারিত হয়েছে। দেশটির জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, চাঁদ দেখার পর তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

৭ জুন ঈদ পালন করবে যেসব দেশ:

মালয়েশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ব্রুনেই ও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে মঙ্গলবার চাঁদ দেখা না যাওয়ায় জিলহজ মাস শুরু হবে ২৯ মে থেকে। ফলে ১০ জিলহজ অনুযায়ী এসব দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে ৭ জুন,শনিবার।

বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ২৮ মে সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।যদিও এখন পর্যন্ত ৭ জুনকেই সম্ভাব্য ঈদের তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারিভাবে ৫ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ঈদ উপলক্ষে টানা ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

তারিখের তারতম্যের পেছনের কারণ:

চাঁদনির্ভর হিজরি ক্যালেন্ডার অনুসরণ করার ফলে অঞ্চলভেদে ঈদের তারিখে ভিন্নতা দেখা দেয়। স্থানীয় পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন দিনে ঈদ পালিত হলেও এর মূল তাৎপর্যে কোনো পরিবর্তন আসে না।

ঈদুল আজহা মুসলিমদের বিশ্বাস ও আত্মত্যাগের প্রতীক। এই দিনটি হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর নিষ্ঠা ও আল্লাহর আদেশ পালন করার অটল সংকল্পের স্মরণে উদযাপিত হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে পশু কোরবানি করে মুসলমানরা তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। এটি শুধু উৎসব নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও সামাজিক ঐক্যের অনন্য প্রতীক।

মতামত দিন