কোরবানি: ইসলামের মহান নিদর্শন ও শরিয়তসম্মত নিয়ম।
ঢাকা,আজ মঙ্গলবার ২৭ মে ২০২৫:
কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এটি হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর আদর্শের অনুসরণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য উপায়।
সামর্থ্যবান ব্যক্তি একাই একটি পশু কোরবানি করলে তা উত্তম। তবে গরু, মহিষ ও উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত অংশীদার হয়ে কোরবানি দেওয়া বৈধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “গরু ও উট সাতজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করা যাবে” (আবু দাউদ: ২৭৯৯)। হজরত জাবের (রা.)-এর বর্ণনায় রয়েছে, হজের সময় সাহাবিরা সাতজন মিলে একটি উট বা গরু কোরবানি করতেন (সহিহ মুসলিম: ১৩১৮)।
তবে কোরবানির অন্যতম শর্ত হলো—প্রত্যেক শরিকের নিয়ত হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কেবল মাংস পাওয়ার উদ্দেশ্যে অংশগ্রহণ করলে বা কোনো অমুসলিম শরিক হলে কোরবানি সহিহ হবে না।
ছাগল, ভেড়া বা দুম্বার কোরবানি কেবল একজনের পক্ষ থেকে বৈধ। এসব পশুতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হতে পারবে না। অন্যদিকে, গরু, মহিষ বা উটে সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারবেন; এর বেশি হলে কারো কোরবানি গ্রহণযোগ্য হবে না (বাদায়েউস সানায়ে ৫/৭০)।
শরিকে কোরবানিতে শরিকদের অংশ এক-সপ্তমাংশের কম হওয়া চলবে না। কেউ কম অংশ নিলে কারো কোরবানি গ্রহণযোগ্য হবে না (বাদায়েউস সানায়ে ৫/৭১)। আর পশুর গোশত ওজন করে সমানভাবে ভাগ করতে হবে; অনুমাননির্ভর বণ্টন বৈধ নয় (আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৭)।
যদি কোনো ধনী ব্যক্তি একা কোরবানির জন্য গরু কিনে থাকে, তবে তার জন্য অন্য কাউকে শরিক করা জায়েজ হলেও একাই কোরবানি করাই উত্তম। শরিক করলে তার অংশের অর্থ সদকা করে দেওয়াই উত্তম। আর গরিব ব্যক্তি কোরবানির পশুতে কাউকে শরিক করতে চাইলে ক্রয়কালে তা নির্দিষ্ট করে নেওয়া আবশ্যক। পরে অংশীদার যুক্ত করলে শরিকের অর্থ সদকা করে দেওয়া বাধ্যতামূলক (হেদায়া ৪/৪৪৩)।
কোরবানির এ ইবাদত শুধু পশু জবেহ নয়; বরং এটি একটি আত্মিক আত্মসমর্পণ, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মত্যাগের প্রতীক। এই ইবাদতের মাধ্যমে মুসলমানদের উচিত খাঁটি নিয়ত ও শরিয়তের নির্দেশনা অনুসরণ করে কোরবানি সম্পাদন করা।

মতামত দিন