ইসলামের আলো
ছবি: সংগৃহীত

জিলহজের প্রথম দশক: সর্বোত্তম দিন, অগাধ সওয়াব।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা,আজ সোমবার ২৬ মে ২০২৫:
ইসলামি বর্ষপঞ্জির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মাস জিলহজ। এ মাসের প্রথম দশ দিন সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “শপথ ফজরের এবং দশ রাতের” (সুরা ফাজর: ১-২)। অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এখানে উল্লেখিত ‘দশ রাত’ হলো জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন।

হাদিস শরিফেও এই দিনগুলোর গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম দশ দিনের চেয়ে উত্তম ও প্রিয় দিন আর নেই।” (ইবনে হিব্বান: ৩০২) অন্য হাদিসে তিনি বলেন, “এই দশ দিন পৃথিবীর সর্বোত্তম দিন।” (তারতিবুল আমালি: ১৬৮৭)

ইবাদতের ফজিলতঃ

এই দশকে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে পাওয়া যায় অগাধ সওয়াব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“এই দিনগুলোতে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার বেশি বেশি পড়।”
(তারতিবুল আমালি: ১৭৪৫)

একটি হাদিসে বলা হয়েছে, “জিলহজের প্রতিটি দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমান এবং প্রতিটি রাতের ইবাদত শবে কদরের ইবাদতের সমান।” (তিরমিজি: ৭৫৮)

আরাফার রোজাঃ

জিলহজের ৯ তারিখ, অর্থাৎ আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, “আশা করি, এই রোজা দ্বারা আল্লাহ এক বছর আগের ও পরের গুনাহ ক্ষমা করবেন।” (তিরমিজি: ৭৪৯)
তিনি আরও বলেন, “এই রোজা হাজার দিনের রোজার সমান সওয়াব দেয়।” (শুআবুল ঈমান: ৩৪৮৬)

সামর্থ্যহীনদের জন্য বিশেষ আমলঃ

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, তারাও কোরবানির সওয়াব পেতে পারেন কিছু নির্দিষ্ট আমলের মাধ্যমে। রাসুল (সা.) বলেছেন, জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে পশু কোরবানি করা পর্যন্ত কেউ যদি নিজের চুল, নখ, নাভির নিচের লোম ও গোঁফ কাটেন না, তাহলে তার জন্য পূর্ণ একটি কোরবানির সওয়াব রয়েছে। সামর্থ্যবান ব্যক্তি এই আমল করলে দ্বিগুণ সওয়াব পাবে।

মতামত দিন