ইসলামের আলো
ছবি: সংগৃহীত

উটের গোশত খেলে ওযু ভেঙে যায় – শরিয়তের সুস্পষ্ট নির্দেশনা কি?

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আজ সোমবার (২৬ মে),ইসলামী শরিয়তে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা ওযু ভঙ্গের কারণ হিসেবে বিবেচিত। তার মধ্যে অন্যতম একটি হল উটের গোশত খাওয়া।

এ বিষয়ে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়।

সহীহ মুসলিম-এ জাবির ইবনে সামুরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত,রাসূল (সাঃ) বলেন—

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, ছাগলের মাংস খেলে কি ওযু করতে হবে? রাসূল (সাঃ) বললেন, ‘ইচ্ছা করলে করো।’

পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো, উটের মাংস খেলে কি ওযু করতে হবে? রাসূল (সাঃ) বললেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’

(সহীহ মুসলিম)

এছাড়া অন্যান্য হাদীসেও রাসূল (সাঃ) বলেন:

“উটের গোশত খেলে তোমরা ওযু করো।”
(মুসনাদ আহমাদ, সুনান আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, সহীহুল জামে: ৩০০৬)

এই হাদীসগুলোর পর্যালোচনায় বোঝা যায়—ছাগলের মাংস খেয়ে ওযু করা ঐচ্ছিক হলেও, উটের মাংস খাওয়ার পর ওযু করা আবশ্যক। এখানে কোনো ইচ্ছাধিকার নেই।

উটের গোশতের ধরন নিয়ে সন্দেহ নেই:

এ ব্যাপারে গোশতের ধরন বা অংশবিশেষ নিয়েও কোনো ব্যতিক্রম উল্লেখ করা হয়নি।
অর্থাৎ, গোশত কাঁচা হোক বা রান্না করা, লাল রঙের হোক বা অন্য রঙের—যে কোনো অংশ যেমন কলিজা, নাড়িভুঁড়ি, চর্বি, হৃৎপিণ্ড—খেলে ওযু ভঙ্গ হবে।
রাসূল (সাঃ) এ বিষয়ে কোনো পার্থক্য করেননি, যদিও তিনি জানতেন মানুষ উটের সব অংশই খায়।

ইমামদের মতামত:

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.), ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ, ইমাম বায়হাকী, ইবনে খুজাইমা, আবু বকর ইবনে মুনযির প্রমুখ জ্ঞাতব্য মুহাদ্দিসগণ ও ফুকাহার মতে, উটের গোশত খেলে ওযু ভেঙ্গে যায়।
এ মত সাহাবায়ে কিরাম থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
(দ্রঃ: সহীহ মুসলিম, ইমাম নববী কর্তৃক ব্যাখ্যাত: ৪/৪৮-৪৯)

এই হাদীসগুলোর ব্যাখ্যা নিয়ে দুই ধরনের মত,কিছু আলেম বলেন:

১. এই বিধান ছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে, পরবর্তীতে রহিত হয়েছে।
২. ওযুর অর্থ এখানে শুধুমাত্র হাত-মুখ ধোয়ার নির্দেশ হিসেবে এসেছে, পূর্ণ ওযু নয়।
(রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, ইলাউস সুনান)

তবে অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও ফকীহদের মতে, এ হাদীস এখনও প্রযোজ্য এবং ওযু ভঙ্গ হয়।

উটের গোশত ও শয়তানী প্রভাব:

এই বিধানের পেছনে হিকমত বা প্রজ্ঞা কী?
রাসূল (সাঃ) বলেন:

“উট শয়তান থেকে সৃষ্টি হয়েছে।”
(ইবনে মাজাহ: ৭৬৯)

রাসূল (সাঃ) আরও বলেন:

“প্রত্যেক উটের পৃষ্ঠে শয়তান থাকে, তাই তাতে আরোহণের সময় বিসমিল্লাহ বল।”
(মুসনাদ আহমাদ: ছহীহ হাদীস ২২৭১)

ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন,

উটের গোশত মানুষের শরীরে শয়তানী প্রভাব তৈরি করতে পারে, আর এই প্রভাব দূর করার জন্য ওযু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
(মাজমূ’ ফাতাওয়াঃ ২০/৫২৩)

শাইখ উছাইমীন (রহ.) এর মতে,

উটের মাংস স্নায়ুবিক উত্তেজনা বাড়ায়, যা ওযুর মাধ্যমে হ্রাস পায়।
(শারহুল মুমতে: ১/৩০৮)

উপসংহার:উটের গোশত খাওয়া ও ওযু ভঙ্গের বিষয়টি কোনো বিতর্কের জায়গা নয়।এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

তাই কোনো মুসলিমের উচিত নয় এই বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা বা সন্দেহ পোষণ করা।
(রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, মিশকাত: ৩০৫)

মতামত দিন