কার ওপর কোরবানি ফরজ? কীভাবে নির্ধারণ করবেন?
কোরবানি মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা প্রতিটি সামর্থ্যবান পুরুষ ও নারীর জন্য ওয়াজিব। ইসলামের মহান নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) হিজরতের পর থেকে প্রতি বছর নিয়মিত কোরবানি করেছেন এবং কখনও এটি পরিত্যাগ করেননি।
কোরবানি কার ওপর ওয়াজিব?
সাধারণভাবে বলা যায়, যার ওপর জাকাত ফরজ, তার ওপর কোরবানিও ফরজ। অর্থাৎ, প্রাপ্তবয়স্ক, সম্পূর্ণ সুস্থ ও সুপ্রবুদ্ধ মুসলিম পুরুষ ও নারীর ওপর কোরবানি আদায় বাধ্যতামূলক। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সম্পদ: কোরবানির সময়কালে (১০ জিলহজের ফজর থেকে ১২ জিলহজের সূর্যাস্ত পর্যন্ত) নেসাব বা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ ব্যক্তির কাছে থাকা প্রয়োজন।
নেসাব কি?
নেসাব বলতে বোঝানো হয়- সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রূপার সমমূল্যের সম্পদ। শুধু সোনা-রুপা নয়, প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থাবর ও চলনশীল সম্পদ যেমন জমি, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালান্স ইত্যাদি মিলিয়ে এই পরিমাণ হলে কোরবানি ওয়াজিব হয়। প্রয়োজনীয় বস্তু যেমন খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, বাহন—যেগুলো ছাড়া জীবন ধারণ কঠিন—তাদের মূল্য কোরবানির হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হয়।
কোরবানি না দিতে পারলে করণীয়:
যদি কেউ নগদ অর্থ না থাকায় কোরবানি করতে না পারে, তবে ঋণ করে হলেও কোরবানি দেয়া উচিৎ। আর যদি কোনো কারণে কোরবানির সময় চলে যায়, তাহলে ওই ব্যক্তিকে মধ্যমপন্থী বকরি বা ছাগলের সমমূল্যের টাকা সদকা হিসেবে দিতে হবে। এছাড়া, যদি কোরবানির জন্য ওয়াজিব সম্পদ থাকার পরও কেউ কোরবানি না করে এবং পরে গরিব হয়ে যায়, তাহলে তাকে অবশ্যই কোরবানির সমপরিমাণ সদকা দিতে হবে।
সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ:
সম্পদের সঠিক হিসাব করতে অসুবিধা হলে একজন শিক্ষিত ও বিশ্বাসযোগ্য আলিমের সাহায্য নেওয়া বাঞ্চনীয়, যারা শরিয়ার দৃষ্টিতে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। কোরবানি ইবাদতকে সঠিক নিয়মে পালন করা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন তিনি আমাদের সঠিকভাবে কোরবানি করার তাওফিক দান করেন এবং আমাদের ইবাদত কবুল করেন। আমিন।
মতামত দিন