ঘোড়া কোরবানি করা যাবে কি,ইসলাম কি বলে?
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
না, ঘোড়া কোরবানি করা যায় না।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
যে কোনো হালাল পশু কোরবানি হিসেবে জবাই করা যাবে—এমন ধারণা শরিয়তসম্মত নয়। যেমন,হরিণ বা খরগোশের মাংস খাওয়া হালাল হলেও, তা কোরবানির পশু হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। ঠিক একইভাবে, ঘোড়ার মাংস খাওয়া কিছু ইমাম ও সাহাবিদের মতে হালাল হলেও, ঘোড়াকে কোরবানি দেওয়া জায়েজ নয়।
ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে:
হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি—চার মাজহাবের ইমামদের কেউই ঘোড়াকে কোরবানির উপযুক্ত মনে করেননি।
কোরবানি একটি নির্দিষ্ট ইবাদত, আর ইবাদত কেবল সেইভাবেই হবে যেভাবে আল্লাহ ও রাসুল (সা.) নির্ধারণ করেছেন।
যেহেতু নবী (সা.) কখনো ঘোড়া কোরবানি দেননি বা তা উৎসাহ দেননি, বরং নির্দিষ্ট ছয়টি গবাদিপশু ছাড়া অন্য পশু কোরবানির কথা বলেননি, তাই ঘোড়া কোরবানি না করার ব্যাপারে ইজমা (ঐক্যমত) বিদ্যমান।
ঘোড়ার মাংস খাওয়া হালাল কি?
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ঘোড়ার মাংস খাওয়াকে মাকরুহে তানযিহি বলেছেন (অপছন্দনীয়, তবে নিষিদ্ধ নয়)। তার যুক্তি ছিল—ঘোড়া যুদ্ধ ও বাহন হিসেবে মানুষের প্রয়োজনীয় সম্পদ, অতএব খাদ্য হিসেবে তার ব্যবহার নিরুৎসাহিত।
তবে হানাফি মাজহাবেরই অন্য দুই বিশিষ্ট ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.) ঘোড়ার মাংসকে হালাল বলেছেন।
সহিহ হাদিসসমূহ থেকে প্রমাণ:
১. আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) বলেন:
“আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে একটি ঘোড়া জবাই করে তা খেয়েছিলাম।”
— সহিহ বুখারি: ৫১৯১, সহিহ মুসলিম: ১৯৪২
জাবির (রা.) বলেন:
“আমরা খায়বারের যুদ্ধে ঘোড়ার মাংস খেয়েছি এবং রাসুল (সা.) তা নিষেধ করেননি।”
— সহিহ বুখারি: ৩৯৮২, সহিহ মুসলিম: ১৯৪১
উপসংহার:
ঘোড়ার মাংস খাওয়া: হানাফি মাজহাব অনুযায়ী মাকরুহ, অন্য মাজহাব অনুযায়ী হালাল।
ঘোড়া কোরবানি দেওয়া: চার মাজহাবেই নাজায়েজ। কোরবানি হিসেবে ঘোড়া গ্রহণযোগ্য নয়।
সুতরাং, শরিয়তের দৃষ্টিতে ঘোড়াকে কোরবানির পশু হিসেবে জবাই করা যাবে না।
মতামত দিন