ইহরাম অবস্থায় ভেঙে যাওয়া নখ কেটে ফেলা যাবে?
প্রশ্ন: আমি গত বছর হজে গিয়েছিলাম। ইহরাম অবস্থায় একদিন হোঁচট খেয়ে পড়ে যাই।
উত্তর: ইহরাম অবস্থায় অপ্রয়োজনে নখ কাটা নিষিদ্ধ হলেও ভেঙে যাওয়া বা ঝুলে থাকা নখ কেটে ফেলা — যখন তা কষ্ট বা কষ্টদায়ক অবস্থার কারণ হয় — তখন তা জায়েজ। এ ক্ষেত্রে শরয়ী দৃষ্টিতে কোনো দম বা সদকা ওয়াজিব হয় না। এটি একধরনের অপারগতা বা অনিবার্য পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে।
প্রমাণ: হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন,
“যদি কারো নখ ভেঙে যায়, তবে সে তা কেটে ফেলবে।”
ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ নিষিদ্ধ:
ইহরাম অবস্থায় হজ বা ওমরাহর উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট নিয়মে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এ অবস্থায় কিছু কাজ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ:
১. চুল ও নখ কাটা বা উপড়ানো:
ইচ্ছাকৃতভাবে চুল বা নখ কাটা হারাম। তবে অসাবধানতাবশত ভেঙে গেলে বা অতিরিক্ত কষ্ট হলে ব্যতিক্রম অনুমতি রয়েছে।
২.আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার:কাপড় বা শরীরে আতর, সুগন্ধিযুক্ত তেল, পাউডার,স্নো ইত্যাদি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ
৩.সেলাই করা কাপড় পরা (পুরুষের ক্ষেত্রে):পুরুষ ইহরাম অবস্থায় সেলাই করা জামা, প্যান্ট, মোজা, টুপি, গ্লাভস ইত্যাদি পরতে পারবেন না।
৪.মাথা ও মুখ ঢেকে রাখা (পুরুষের জন্য):টুপি, গামছা বা অন্য কিছু দিয়ে মাথা বা মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ।
৫.নারীদের জন্য চেহারায় নিকাব বা মুখ-লাগা কাপড় পরা:তবে পরপুরুষের দৃষ্টির কারণে নিজেকে ঢেকে রাখা ফরজ, সে জন্য বিশেষভাবে মুখ ঢাকার ব্যবস্থা করতে হবে — যেন কাপড় চেহারায় না লাগে।
৬.সহবাস বা কামোদ্দীপক আচরণ:স্বামী-স্ত্রীর সহবাস, কামুক কথাবার্তা, চুমু বা আলিঙ্গন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৭.শিকার বা শিকারের সহযোগিতা করা:কোনো বন্য পশু শিকার করা যাবে না, এমনকি শিকারিকে সহায়তাও করা যাবে না।
৮.ঝগড়া-বিবাদ ও অভদ্র ভাষা ব্যবহার:ইহরামের অবস্থায় ঝগড়া, গালি-গালাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, যদিও তা স্বাভাবিক অবস্থাতেও নিন্দনীয়।
৯.উকুন মারা বা ঝেড়ে ফেলা:কাপড় বা শরীর থেকে উকুন টেনে ফেলা নিষিদ্ধ।
১০.সুগন্ধি ফল-ফুলের ঘ্রাণ নেওয়া, সুগন্ধিযুক্ত খাবার খাওয়া:ইচ্ছাকৃতভাবে ঘ্রাণ নেওয়া মাকরুহ। তবে ফল বা খাবারে স্বাভাবিক ঘ্রাণ থাকলে এবং তা ইচ্ছাকৃত না হলে দোষ নেই।
উপসংহার:
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে, যেহেতু নখটি ভেঙে গিয়েছিল এবং তা কষ্টদায়ক ছিল, তাই কেটে ফেলা শরিয়তসম্মত হয়েছে। এর জন্য দম বা সদকার প্রয়োজন নেই। তবে ইহরামের নিয়মগুলো সম্পর্কে আগে থেকে স্পষ্ট ধারণা রাখা প্রত্যেক হাজির জন্য জরুরি।
মতামত দিন