যশোরে শীতের তীব্রতা ১৪ বছর পর তাপমাত্রা নামল ৮.৮ ডিগ্রিতে।
পৌষের শুরুতেই যশোরে শীত যেন আচমকা চেহারা বদলেছে। ভোরের ঘন কুয়াশা আর উত্তর দিকের ঠান্ডা বাতাসে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন শুক্রবার এই তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পর যশোরে আবারও এত কম তাপমাত্রা রেকর্ড হলো।
আবহাওয়া বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যশোরে এর আগে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। আর ১৯৬২ সালে জেলার ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নেমেছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যশোরসহ চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও নীলফামারী অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও এই পরিস্থিতি আরও কিছুদিন থাকতে পারে। যদিও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে।
তীব্র শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দিনমজুর ও রিকশাচালকরা। যশোর শহরের বিভিন্ন শ্রমবাজারে কাজের খোঁজে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। যারা আসছেন, তারাও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে কাজ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
একজন রিকশাচালক বলেন, ঠান্ডায় হাত শক্ত হয়ে যাচ্ছে, ঠিকমতো রিকশা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আরেক ইজিবাইক চালক জানান, যাত্রী কমে যাওয়ায় আয়ও অনেকটা কমে গেছে, তবু পরিবার চালাতে বাধ্য হয়ে পথে নামতে হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। যশোরে বর্তমানে সেই সীমার মধ্যেই শীত চলছে। তবে স্থানীয়দের মতে, কুয়াশা ও বাতাসের কারণে শীতের প্রকৃত অনুভূতি আরও বেশি।
মতামত দিন