আবহাওয়া
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

উত্তরের শীতল হাওয়ার কারণে পঞ্চগড়ে তাপমাত্রার ওঠানামা বেড়েছে, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে। জেলার সাধারণ মানুষ এখন সকালে ও রাতের বেলায় শীতের কারণে কষ্টের মুখে পড়ছেন।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের রেকর্ড অনুযায়ী, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ছিল ৮৪ শতাংশ। গতকালের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মৌসুমে এটি এখন পর্যন্ত জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। টানা পাঁচ দিন ধরে এই ধরনের ঠান্ডা চলছে।

সন্ধ্যার পর কুয়াশা ঘন হয়ে আসে, রাতে শিশির জমে শীত আরও অনুভূত হয়। দিনের আলো থাকলেও সকাল-সন্ধ্যা সময় শ্রমজীবী মানুষদের বাইরে কাজ করতে বেশ কষ্ট হয়।

শীতের তীব্রতার প্রভাব দেখা দিয়েছে স্বাস্থ্য খাতে। জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালসহ চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগী বাড়ছে। একই সঙ্গে শীতবস্ত্র ও পিঠাপুলি বিক্রির দোকানগুলোতে ক্রেতা বেড়েছে। কৃষিক্ষেত্র ও গৃহপালিত পশুর ওপরও প্রভাব পড়েছে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, শীতের কারণে সকালবেলা কাজ করা কঠিন হয়ে গেছে। তেঁতুলিয়া শালবাহান এলাকার নুর ইসলাম বলেন, “সকালে মাঠে কাজ করতে গেলে অনেক কষ্ট হয়।” বোদা সাকোয়ার ভ্যানচালক আইয়ুব আলী বলেন, “সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত শীত বেশি অনুভূত হয়, বাইরে বের হওয়া কঠিন।”

উপজেলা আবহাওয়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, হিমালয়ের নিকটে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার তাপমাত্রা স্থির না থেকে ওঠানামা করছে। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেও একই ধরনের তাপমাত্রার পার্থক্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান বলেছেন, শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। এই বরাদ্দ ব্যবহার করে জেলার পাঁচ উপজেলায় শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া শীতার্তদের অতিরিক্ত সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আবেদন প্রক্রিয়া চলছে।

মতামত দিন