ধেয়ে আসছে বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘সেনিয়ার’।
দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও আশপাশের এলাকায় তৈরি হওয়া একটি লঘুচাপ দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে। খুব শিগগিরই এটি নিম্নচাপ থেকে গভীর নিম্নচাপে, পরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া সংস্থাগুলো।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন শ্রীলঙ্কা উপকূলের দিকে একটি নতুন লঘুচাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
এর আগের শনিবার তৈরি হওয়া আরেকটি দুর্বল লঘুচাপও ধীরে ধীরে গাঢ় হচ্ছে। সেটি মালাক্কা প্রণালী অতিক্রম করে আন্দামান সাগরের দিকে অগ্রসর হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার পথে রয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সোমবারই দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন আন্দামান অঞ্চলে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যা পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়ে পরিবর্তিত হতে পারে। সম্ভাব্য ঝড়টির নাম ইতোমধ্যে ঠিক করা আছে—‘সেনিয়ার’, যার অর্থ সিংহ। তবে ঝড়টি কোন উপকূলে প্রথম আঘাত হানতে পারে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত পূর্বাভাস নেই।
ভারতের আবহাওয়াবিদ সন্দীপ পট্টনায়কের মতে, সমুদ্রের উপরিভাগে বিস্তৃত উষ্ণতার পাশাপাশি শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ ঝড়ের জন্য অত্যন্ত সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে। শীতল বায়ুর প্রভাব সরে যাওয়ায় নিম্নচাপটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করার সুযোগ পাচ্ছে।
বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, আন্দামান সাগরের লঘুচাপটি ২৫ থেকে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে, এরপর ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বে-অব-বেঙ্গলের মাঝামাঝি অংশের দিকে এগোতে পারে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৮-২৯ নভেম্বরের মধ্যে এটি মধ্য ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী আকার নেবে।
পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ঘূর্ণিঝড়টি দিক বদলে উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে উঠে আসতে পারে। সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ১ থেকে ২ ডিসেম্বরের মধ্যে ঝড়টি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল বা বাংলাদেশ–ভারতের মধ্যবর্তী কোনো এলাকায় আঘাত হানতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দিতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
২৮ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ঝড়ো বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কোন এলাকায় প্রভাব পড়তে পারে—এ মুহূর্তে নিশ্চিত নয়। তবে সমুদ্রগামী নৌযান ও মৎস্যজীবীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি উপকূলীয় প্রশাসনকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মতামত দিন