ভোলায় নিম্নচাপের তাণ্ডব: নদী পথ বন্ধ ঘোষণা।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে ভোলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উঁচু জোয়ারে জেলার নদ-নদীগুলো ফুঁসে উঠেছে।
ভোলা সদর, দৌলতখান, তজুমদ্দিন ও মনপুরা উপজেলার অন্তত ৫০টিরও বেশি গ্রামের মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় দিন পার করছেন। অনেক এলাকায় ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে নদীর পানি। চরে বসবাসকারী হাজারো পরিবার গবাদিপশু, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।
এ অবস্থায় যাত্রী নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ভোলা-লক্ষ্মীপুর, দৌলতখান-আলেকজান্ডার ও হাতিয়া-মনপুরাসহ অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সব ধরনের লঞ্চ ও সি-ট্রাক চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমুদ্রে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি থাকায় অভ্যন্তরীণ নৌরুটগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, পানি বৃদ্ধির কারণে ইলিশা ফেরিঘাটের দুটি গ্যাংওয়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফেরি পারাপারে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। জোয়ারের সময় কোমরসমান পানি উঠে যাওয়ায় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ভোলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে ধসের খবর পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার শিবপুর, চরফ্যাশনের খেজুরগাছিয়া ও তজুমদ্দিনের স্লুইসগেট সংলগ্ন এলাকার বাঁধে ঢেউয়ের প্রচণ্ড চাপ পড়ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি মেরামত কাজ শুরু হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও কিছুদিন সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, আগাম সতর্কতা না থাকায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বেশি। অনেকের ধান, পাট ও সবজি খেত জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর সহায়তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।
মতামত দিন