বর্ষায় কুয়াশার চাদরে ঢাকা পঞ্চগড়, ব্যাহত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বর্ষাকালে সাধারণত বৃষ্টির চিত্রই পরিচিত হলেও, পঞ্চগড়ে এবার ভোরে ঘন কুয়াশার অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখা গেছে।ভোর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ কুয়াশা পড়ায় সৃষ্টি হয়েছে এক বিরল প্রাকৃতিক পরিস্থিতি।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৬টা ও ৯টায় জেলার তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারাদিনে তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠানামা করছে, আর রাতের তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৭ ডিগ্রির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েক দশকে এমন দিনে কুয়াশা পড়তে দেখেননি তারা। পঞ্চগড় সদর উপজেলার আলী বলেন, “৪০-৫০ বছরেও এমন দিনে কুয়াশা পড়তে দেখিনি। রাত থেকেই কুয়াশা পড়ছিল, কিন্তু ভোরের দিকে পুরো এলাকা ঢেকে যায়। বৃষ্টির মতো ঝরতে থাকে কুয়াশা।”
তিনি আরও জানান, বর্ষাকালে সাধারণত কুয়াশা দেখা যায় না। তার মতে, এই কুয়াশা হয়তো বৃষ্টির সম্ভাবনা কমিয়ে দিচ্ছে। “গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি নেই। রোপা আমন লাগাতে পারছি না ঠিকভাবে। মাঠে পানি দরকার।”
জেলা শহরের ইজিবাইকচালক বলেন, “সকালে বের হয়েই দেখি চারদিক কুয়াশায় আচ্ছন্ন। গাড়িগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে, অথচ গরমও প্রচণ্ড। এমন কুয়াশা আগে কখনো বর্ষায় দেখিনি।”
আবহাওয়াবিদদের মতে, কুয়াশার এই অস্বাভাবিকতা মূলত আবহাওয়ার দুই বিপরীত অবস্থার মিলনের ফল। তেঁতুলিয়ার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, “রাতের তাপমাত্রা কমে গেছে এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়েছে। এর ফলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে কুয়াশায় রূপ নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য ৭-৮ ডিগ্রির মতো হওয়ায় ঘন কুয়াশা তৈরি হয়েছে। বর্ষাকালে এ ধরনের কুয়াশা বিরল হলেও, আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এটিকে সম্ভব করে তুলেছে।”
এই ব্যতিক্রমী জলবায়ু পরিস্থিতি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও কৃষিকাজে বাধা সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টির আশায় তাকিয়ে আছেন পঞ্চগড়ের মানুষ।
মতামত দিন