আগামী আরও পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বৃষ্টি, জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
তবে বৃষ্টিতে স্বস্তি কম, বরং আর্দ্রতা থাকায় ভ্যাপসা গরমেই ভোগান্তি বেড়েছে।
বৃষ্টিতে কোথায় কতটা ভিজল
দিনভর বৃষ্টির তালিকায় শীর্ষে ছিল বান্দরবান—সেখানে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া বিভাগ। সাতক্ষীরায় ১০০, যশোর ও হাতিয়ায় ৮৬, রামগতিতে ৭৬, খেপুপাড়ায় ৭৩, চুয়াডাঙ্গায় ৬৯, ভোলায় ৬৫ এবং নেত্রকোনায় ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টির তথ্য মিলেছে। ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ১৭ মিলিমিটার।
তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ভ্যাপসা গরম
সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সিলেটে—৩৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় টাঙ্গাইলে, ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সমুদ্রবন্দর ও উপকূলে সতর্কতা
বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
বৃষ্টিপাত কতটা ভারি ছিল?
আবহাওয়া বিভাগের মাপকাঠিতে ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি ‘অতি ভারি’ হিসেবে ধরা হয়। এই হিসাবে বান্দরবানের বৃষ্টিপাত ছিল অতিভারি পর্যায়ে।
কেমন থাকতে পারে সামনের দিনগুলো?
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী:
-
মঙ্গলবার ও বুধবার: দেশের অধিকাংশ স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। রাজশাহী ও খুলনার কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা।
-
বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার: সারাদেশে আবহাওয়া একইরকম থাকতে পারে। তবে দিন-রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়বে।
আবহাওয়াবিদের পর্যবেক্ষণ
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, স্থল নিম্নচাপটি দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে। এর কারণে উপকূল ও সমুদ্র এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকবে আরও কয়েক দিন।
চলতি মাসের শুরু থেকেই বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। ফেনীতে ৮ জুলাই ৪৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা এ বছরের সর্বোচ্চ। এতে ওই অঞ্চলে সৃষ্টি হয় আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা।

মতামত দিন