আবহাওয়া
ছবি: সংগৃহীত

মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উপকূলজুড়ে ঝড়বৃষ্টি, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

উত্তর বঙ্গোপসাগরজুড়ে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সাগরে সৃষ্টি হয়েছে গভীর বজ্রমেঘ ও ঝোড়ো হাওয়া।এর প্রেক্ষিতে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকাল ৯টায় প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় এসব তথ্য জানায় অধিদপ্তর। বার্তায় বলা হয়, সাগরে বায়ুচাপের পার্থক্য দেখা দিয়েছে, যার ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এতে এসব এলাকায় বজ্রসহ প্রবল বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছধরা নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ু প্রবলভাবে সক্রিয় থাকায় রংপুর ও রাজশাহী ছাড়া দেশের অধিকাংশ স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশেই বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক স্থানে বজ্রসহ দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে।

এ অবস্থায় দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে সন্দ্বীপে, যেখানে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় রেকর্ড হয়েছে মাত্র ৭ মিলিমিটার। আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারী বৃষ্টিপাতের এই ধারা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ কম হতে পারে, যা ভ্যাপসা গরম প্রশমিত করবে।

মতামত দিন