কক্সবাজারে জোয়ারে প্লাবিত অর্ধশতাধিক গ্রাম, সেন্টমার্টিনে পানিবন্দি বাসিন্দারা।
আজ শুক্রবার,৩০ মে ২০২৫:
নিম্নচাপের প্রভাবে সাগরে সৃষ্ট সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারে অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতও বহাল রয়েছে।
উপকূলজুড়ে ঢেউয়ের প্রচণ্ড আঘাতে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টে দোকানপাট ভেঙে গেছে,উপড়ে গেছে ঝাউগাছ।পর্যটক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে ভিড় জমালেও লাইফ গার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে কুতুবদিয়া উপজেলা। আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ ভেঙে কবি জসীম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা ও আশপাশের পূর্বপাড়া, হাইস্কুলপাড়া, শান্তি বাজার এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কৈয়ারবিল, উত্তর ও দক্ষিণ ধুরং ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় কয়েকশ বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। স্থানীয়রা জানান, বহু বেড়িবাঁধ দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
ইউএনও ক্যথোয়াইপ্রু মারমা জানান, কুতুবদিয়ায় ৭-৮টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তাৎক্ষণিক মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, কক্সবাজারের তিন উপজেলায় অন্তত ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে প্লাবন চলছে।
চারদিন ধরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের সঙ্গে সব ধরনের নৌ যোগাযোগ বন্ধ। পণ্যবাহী ট্রলার না চলায় দ্বীপে কাঁচাবাজার ফুরিয়ে গেছে এবং অন্যান্য ভোগ্যপণ্যও শেষ পর্যায়ে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন,“বাজারে যা আছে তার দাম চড়া।মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে, দ্বীপ এখন কার্যত বন্দিশালায় পরিণত হয়েছে।”
টেকনাফের ইউএনও শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।
মতামত দিন