আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় নিহত ১৫১, মানবিক বিপর্যয় চরমে।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নতুন করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। রোববার (১৮ মে) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫১ জন ফিলিস্তিনি।

হতাহতের এই সংখ্যা একদিনে গাজায় সংঘটিত হামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গাজার হাসপাতাল সূত্রগুলো জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে, যেখানে একদিনেই নিহত হয়েছেন ৬৯ জন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এ এলাকায় ব্যাপকভাবে স্থল ও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ধ্বংসস্তূপে এখনও অনেকের নিখোঁজ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

একই দিনে দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসির এলাকায় একটি আশ্রয়কেন্দ্রেও বিমান হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যে, রাতের আঁধারে চালানো ওই আক্রমণের সময় কেন্দ্রটিতে ঘুমিয়ে ছিলেন বহু বাস্তুহারা মানুষ, যাদের অনেকেই আগের হামলা থেকে বাঁচতে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও নারী ছিলেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ‘অপারেশন গিডিয়ন চ্যারট’-এর আওতায় গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে যৌথ স্থল অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি রিজার্ভ সেনারাও। আইডিএফ দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহে তারা হামাসের ৬৭০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সামরিক অবকাঠামো, সুড়ঙ্গ ও ট্যাংকবিধ্বংসী অবস্থান।

তবে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে হতাহতের সংখ্যা, কমে আসছে নিরাপদ আশ্রয়ের জায়গা। স্থানীয়দের ভাষায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।

মানবিক বিপর্যয়ে পর্যবসিত হয়েছে গাজা। শিশুরা ঘুম ভাঙাচ্ছে বোমার শব্দে, ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ছে জীবন ও স্বপ্ন। একদিনে এত বিপুল প্রাণহানি যুদ্ধ নয়, বরং নিঃশব্দ এক গণহত্যার ছবি তুলে ধরছে।

মতামত দিন