নাকবা দিবসে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত।
ঐতিহাসিক নাকবা দিবসের ৭৭তম বার্ষিকীতে গাজায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার খান ইউনিস শহরে রাতভর ও বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৫৯ জন নিহত হন। এছাড়া গাজার উত্তরাঞ্চলীয় শহর গাজা সিটি ও জাবালিয়াতেও হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, আহতদের মধ্যে বহু শিশু রয়েছে।
আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজ্জুম দেইর আল-বালাহ থেকে জানান, এটি গাজার জন্য ‘আরেকটি রক্তাক্ত দিন’। তিনি বলেন, “ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই খান ইউনিস শহরে নয়টি বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।”
গাজায় এই সহিংসতা চলছে এমন দিনে, যেটি ফিলিস্তিনিরা ‘নাকবা দিবস’ হিসেবে স্মরণ করে। ১৯৪৮ সালের এই দিনে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরপরই প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ইতিহাসে এ ঘটনাকে ‘নাকবা’ বা ‘মহাবিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
নাকবা দিবস (আরবি: يوم النكبة, অর্থ: বিপর্যয়ের দিন) প্রতি বছর ১৫ মে পালন করেন ফিলিস্তিনিরা। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় বাস্তুচ্যুত হওয়া ফিলিস্তিনিদের স্মরণে দিনটি প্রতীক হয়ে উঠেছে তাদের অধিকার, বিশেষ করে ফিরে যাওয়ার অধিকার (Right of Return) এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,গাজায় চলমান হামলা এবং এ ধরনের প্রতীকী দিনে এত প্রাণহানি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
মতামত দিন