খামেনির মৃত্যু ঘিরে বিভ্রান্তি, ভাইরাল ছবিকে ‘ভুয়া’ বলছে ফ্যাক্টচেক।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।
পরবর্তীতে তথ্য যাচাইয়ে দেখা যায়, খামেনি সাহারা মরুভূমিতে অবস্থান করছেন—এমন দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। ভাইরাল হওয়া ছবিটি সাম্প্রতিক নয়; এটি ২০১৪ সালে তোলা একটি পুরোনো ছবি। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে এর কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। এ দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য ভিডিও ফুটেজ কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্যও মেলেনি। ফলে বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুল তথ্য প্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সব পক্ষকে সামরিক উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।
চীনের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। চীন ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় এ নৌপথ তাদের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, শনিবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করলে কয়েকটি আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি সাময়িকভাবে এ পথ ব্যবহার স্থগিত করে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

মতামত দিন