প্রয়োজন হলে ইরানে স্থলসেনা পাঠানো হবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দাবি করলে ইরানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।
নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতে স্থল অভিযানের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তার ভাষায়, অনেক নেতা আগেভাগেই সেনা না পাঠানোর ঘোষণা দেন, তবে তিনি এমন সীমাবদ্ধ অবস্থান নিতে রাজি নন। প্রয়োজন দেখা দিলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হতে পারে বলেও জানান তিনি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা তৃতীয় দিনে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তেহরানের বর্তমান নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং তাদের হাতে পারমাণবিক সক্ষমতা পৌঁছানো ঠেকানো জরুরি।
ইরানে হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে জনমতের বিভক্তি প্রসঙ্গেও প্রশ্নের মুখে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রয়টার্স-ইপসোস জরিপে উল্লেখযোগ্য অংশের আমেরিকান নাগরিক এই সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করলেও ট্রাম্প জানান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জরিপ তার কাছে প্রধান বিবেচ্য নয়। তার মতে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
এদিকে সিএনএনকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, বর্তমান সামরিক অভিযান এখনো পূর্ণমাত্রায় শুরু হয়নি। সামনে আরও বড় আকারের হামলা পরিচালিত হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হোক—এমনটি তিনি চান না বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তবে অভিযানের গতি পরিকল্পনার তুলনায় দ্রুত এগোচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের পাল্টা হামলাকে এই সংঘাতের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত দিক হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্যবস্তু হওয়া পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক হামলায় ইরানের বহু শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মতামত দিন