তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছেন পুতিন: জেলেনস্কি।
ভূখণ্ড ছাড় দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার যে প্রস্তাব সামনে এসেছে, তা সরাসরি নাকচ করেছেন ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার বক্তব্য, এই সংঘাত কেবল সীমান্ত নিয়ে দ্বন্দ্ব নয়—বরং বৃহত্তর বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কিয়েভে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ থামবে তখনই, যখন ইউক্রেন নিজের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। দখল হওয়া অঞ্চল ছেড়ে দিয়ে আপস করার প্রস্তাবকে তিনি শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, মানবিক বিপর্যয় হিসেবেও দেখছেন। তার ভাষায়, এতে লাখো মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং দেশের ভেতর বিভাজন তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে রাশিয়া দোনেৎস্কের বড় একটি অংশ এবং খেরসন ও জাপোরিঝিয়ার কিছু এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে দাবি করছে। জেলেনস্কির মতে, এসব অঞ্চল কোনো কৌশলগত মানচিত্রের অংশ নয়, বরং মানুষের বসতি—যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এলেও তা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা নয়। পুতিন হয়তো বিরতির সুযোগ নিয়ে পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করতে পারেন—এমন আশঙ্কাও তিনি উড়িয়ে দেননি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে আলোচনায় বসার তাগিদ দিয়েছেন। তবে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি এলে তা যেন কেবল ব্যক্তিনির্ভর না হয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। কারণ সরকার বদলায়, কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাঠামো স্থায়ী থাকে।
সামরিক আইন জারির কারণে ২০২৪ সালের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নিরাপদ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পরিবেশ তৈরি হলে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব বলে জানান তিনি। নিজে আবার প্রার্থী হবেন কি না—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানাননি।
সবশেষে তিনি বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করা। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিজস্বভাবে তৈরির অনুমতি এখনো না পাওয়ায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সীমিত রয়েছে।
মতামত দিন