মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যৌন পাচার মামলায় দণ্ডিত জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রকাশিত বিপুল নথি আবারও রাজনীতি ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিতর্ককে সামনে এনে দিয়েছে। বিচার বিভাগ দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর নতুন মামলা করার মতো শক্ত প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানালেও এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ সম্প্রতি জানিয়েছেন, কংগ্রেসের নির্দেশনায় বিপুল ইমেইল, ছবি ও বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করেও কাউকে অভিযুক্ত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এই অবস্থান মানতে নারাজ কংগ্রেসের একটি অংশ ও ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিরা।
রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা ইতোমধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করেছেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের হাজির হওয়ার কথা রয়েছে; অন্যথায় আদালত অবমাননার অভিযোগ আনার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রকাশিত নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আপত্তিকর তথ্য নেই। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশবাসীকে অতীত বিতর্কে আটকে না থেকে সামনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি এত সহজে থামছে না। নথিতে ট্রাম্পের নাম বহুবার উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে। যদিও ট্রাম্পের বক্তব্য— নব্বইয়ের দশকের পর এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শিথিল হয়ে যায়। কিন্তু ২০১১ সালের একটি ইমেইল, যেখানে ট্রাম্পকে নিয়ে মন্তব্য ছিল, নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট তালিকায় শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই নয়, প্রযুক্তি ও ব্যবসা জগতের প্রভাবশালী কয়েকজনের নামও এসেছে। বিল গেটস ও ইলন মাস্কসহ কয়েকজনকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। একইভাবে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং অর্থনীতিবিদ ল্যারি সামারসও বিতর্কের চাপ অনুভব করছেন।
সামগ্রিকভাবে এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিপত্র যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর মহলের এক অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে আবার আলোচনায় নিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ইস্যু আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করতে পারে।

মতামত দিন